Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরডিহা স্টেশনে উত্তমকুমারের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি বাসিন্দাদের

সরডিহা স্টেশনে উত্তমকুমারের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি বাসিন্দাদের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সরডিহা স্টেশনে উত্তমকুমারের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই স্টেশন এবং তার আশপাশের এলাকায় শ্যুটিং হয়েছিল উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘বাঘবন্দী খেলা’-র। সরডিহা রেল স্টেশন, নিকটবর্তী চালকল ইত্যাদি যায়গায় ছবিটির শ্যুটিং হয়েছিল সাতের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। বহু মানুষ দূর দূরান্ত থেকে সরডিহায় ছুটে এসেছিলেন উত্তমকুমারকে দেখতে। সে সব স্মৃতি আজও রোমন্থন করেন প্রবীণ বাসিন্দারা। ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও এই স্টেশনে এলে একবার খোঁজ করেন ঠিক কোন জায়গায় হয়েছিল সিনেমাটির শ্যুটিং। পীযূষ বসুর পরিচালনায় ১৯৭৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘বাঘবন্দী খেলা’। প্রফুল্ল রায়ের ‘প্রথম তারার আলো’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমায় উত্তম-সুপ্রিয়া ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মহুয়া রায়চৌধুরীর, অসিতবরণের মতো অভিনেতারা। ছবির প্রথম দৃশ্যে রানিপুর নামে যে স্টেশনটি দেখানো হয়েছিল সেটিই এই সরডিহা স্টেশন। স্টেশন চত্বর লাগোয়া স্থানীয় একটি চালকলেও শ্যুটিং হয়েছিল। সেই পুরনো টিকিট কাউন্টার, ওভারব্রিজ এখনও রয়েছে স্টেশনে। সরডিহার বাসিন্দা ৮২ বছরের শশবিন্দু রায় বলেন, ‘বাঘবন্দী খেলা’ সিনেমার শ্যুটিংয়ের কথা এখনও মনে আছে। সেই সময়ে স্টেশনের জরাজীর্ণ ফুটওভার ব্রিজে শ্যুটিংয়ের ছবি আজও চোখে ভাসে। আশপাশের গ্ৰাম থেকে বহু মানুষ শ্যুটিং দেখতে আসত। সরডিহা স্টেশনের কথা তারপরেই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তম স্মৃতি বিজড়িত এই স্টেশন চত্বরে পর্যটকরা আজও ঘুরতে আসেন।  স্টেশন চত্বরে উত্তমকুমারের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি এখনও পূরণ হয়নি। স্টেশন সংলগ্ন মিষ্টি ব্যবসায়ী শ্যামল কর বলেন, যেসব পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন তাঁরা বাঘবন্দী খেলার শ্যুটিং কোথায় হয়েছিল তার খোঁজখবর করেন। সিনেমার শ্যুটিংয়ের দৃশ্য এখানে গ্যালারি আকারে রাখা হলে পর্যটকদের কাছে এখানকার আকর্ষণ আরও বাড়বে। মানিকপাড়া এলাকার হোম স্টের মালিক সুব্রত ঘোষ বলেন, এই এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। পর্যটকরা বেড়াতে এসে স্টেশন চত্বরের ওভারব্রিজ ও স্থানীয় চালকলটি দেখতে যান। স্টেশন চত্বরে উত্তমকুমারের স্মৃতি সংরক্ষণ হলে এই স্থানে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলেই মনে করি। জেলার পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকরা বিধান ঘোষ বলেন, ঝাড়গ্রাম পর্যটনের প্রসারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরডিহা স্টেশনে উত্তম স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সাংসদ কালিপদ সোরেন বলেন, স্টেশন চত্বরে উত্তম স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে জেলার পর্যটন দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব। 
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ