Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সার্ভিস রোড দখলমুক্ত করতে অভিযান দাসপুর থানার পুলিসের, শেষ সতর্কবার্তা

সার্ভিস রোড দখলমুক্ত করতে অভিযান দাসপুর থানার পুলিসের, শেষ সতর্কবার্তা
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: এবার থেকে ব্যস্ত রাস্তার পাশের সার্ভিস রোড দখল করে রাখলেই দাসপুর থানার পুলিস কড়া পদক্ষেপ নেবে। সোমবার রাতে পুলিস দাসপুর গঞ্জ এলাকার অভিযান চালানোর সময় দখলকারীদের এমনই ‘আল্টিমেটাম’ দেয়। ওই রাতে ওসি অঞ্জনিকুমার তেওয়ারির নেতৃত্বে পুলিস বাহিনী প্রত্যেকটি দখলকারীকে সরাসরি ওই নির্দেশ জানিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিসের এই ভূমিকায় খুশি গঞ্জের মানুষজন।
Advertisement
ওই গঞ্জের মধ্য দিয়ে ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তাটি গিয়েছে। গঞ্জ এলাকার পথচারীদের নির্ঝঞ্ঝাটে যাতায়াত করার জন্য পূর্তদপ্তরের পক্ষ থেকে রাস্তার উভয় দিকে দু’মিটার করে একটি করে সার্ভিস রোড তৈরি করে দিয়েছে।  সাইকেলে বা হেঁটে যাতায়াত করার জন্যই ওই সার্ভিস রোডটি করা হয়েছিল বলে পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই গঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, রাস্তার কাজ শেষ হতে না হতেই ব্যবসায়ীরা ওই সার্ভিস রোডের উপরেই মালপত্রের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। কেউ বা বিকেল হলে গঞ্জে বেড়াতে এসে ওই সার্ভিস রোডের উপর গাড়ি বাইক ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে বেপাত্তা হয়ে যান। ফলে সাধারণ মানুষের হেঁটে যাওয়ার কোনও সংকুলান নেই। দাসপুরের স্থায়ী ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা শিশিরকুমার মাজি বলেন, ‘সার্ভিস রোড দখল হয়ে যাওয়ার ফলে আমাদের যাতায়াতের খুবই সমস্যা হয়। আমরা সংগঠনভাবে নিষেধ করেছি। তাতেও কোনও কাজ হয়নি। মাস তিনেক আগে প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। রবিবার রাতে ওসি নিজে বেরিয়ে যেভাবে সতর্ক করেছেন, তাতেই কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে।’
ওই রাতে ওসি হঠাৎই পুলিস বাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পুলিসবাহিনীকে দেখে হকচকিয়ে যান সার্ভিস রোড দখলকারীরা। রাতেই ওসি দখলদারদের মালপত্র গুটিয়ে নিতে বাধ্য করেন। সেই সঙ্গে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে জানান, পরে আর কোনওদিন সার্ভিস রোড দখল করলে পুলিস আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, যাঁরা রাস্তার উপর বাইক, টোটো এবং প্রাইভেট কার পার্কিং করে রেখেছিলেন, তাঁদেরকেও পুলিসের পক্ষ থেকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়।
দাসপুর থানার পুলিস সার্ভিস রোড মুক্ত করার অভিযান চালালেও ঘাটাল শহরের সার্ভিস রোড নিয়ে পুলিস, প্রশাসন, পুরসভা এবং পূর্তদপ্তর পুরোপুরি উদাসীন বলে অভিযোগ। পুজোর মাস দেড়েক আগে সার্ভিস রোর্ড দখল মুক্ত করা হবে বলে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল। দিনও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে দখলমুক্তির কাজ এগয়নি। পূর্তদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, পুলিস ও প্রশাসন সহযোগিতা করলেই তাঁরা কয়েক ঘণ্টায় দখলমুক্ত করে দেবেন। কিন্তু সেবার পুলিস পাওয়া যায়নি বলে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ