Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও বক্রেশ্বরে পর্যটন উন্নয়নে নজর নেই প্রশাসনের

সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও বক্রেশ্বরে পর্যটন উন্নয়নে নজর নেই প্রশাসনের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বক্রেশ্বর: একদিকে রয়েছে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এক পীঠ। পাশেই বাবা মহাদেবের ধাম। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, এখানে উষ্ণ প্রসবন কুন্ডগুলিতে অনবরত হিলিয়াম গ্যাস বের হচ্ছে। যা প্রাকৃতিক দিক থেকে প্রাচুর্যের দিকটি তুলে ধরে। জেলার পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম ক্ষেত্র বক্রেশ্বর হলেও সরকারের চোখে যেন তা ব্রাত্য। বক্রেশ্বরকে ঘিরে জেলার পর্যটন যেভাবে বাড়তে পারত তার ছিটেফোঁটাও না হওয়ায় আক্ষেপ রয়েছে এলাকাবাসীর। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তাঁরা।
Advertisement
বক্রেশ্বরে এমনিতেই সারাবছর মানুষজনের পা পড়ে। যেমন পূর্ণার্থীরা আসেন তেমনই আসেন স্কুল, কলেজের পড়ুয়ারা। বিশেষ কয়েকটি তিথিতে ভক্তদের ভিড় উপছে পড়ে। কিন্তু এলাকাবাসীর আক্ষেপ, সরকার যদি একটু অভিনব ভাবনা নিয়ে প্রচার করত তাহলে ভোল বদলে যেত পারত বক্রেশ্বরের। এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষদের মুখে সেই আক্ষেপ শুনতে পাওয়া গেল। মন্দির যাওয়ার দুই পাশের বড় রাস্তাগুলির অবস্থাও খুব একটা আহামরি নয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে মনে হচ্ছেনা। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল, ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের অফিস তালাবন্ধ। আগাছাতে ভরে গিয়েছে গোটা অফিসঘরটি। জানলা, দরজাগুলিও প্রায় ভেঙে গিয়েছে। বহু বছর এখানে কেউ যে পা  রাখেননি তা মালুম হল। স্থানীয় একজন বলছিলেন, এখানে গবেষকরা গবেষণা করতেন। শুনেছি হিলিয়াম গ্যাসও নিয়ে যেতেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কেউই এখানে আর থাকলেন না। এদিকে গরম জলের কুন্ডুগুলোর দেওয়ালগুলি যদি একটু উঁচু করা হত তাহলে ভালো হত। কেননা, অনেক বাচ্চারা ঘুরতে আসে। কোনওভাবে জলে পড়ে গেলে আর বাঁচানো যাবেনা। আগে এই কুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু দেখবে কে? পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ধ্রবজ্যোতি আচার্য বলছিলেন, এখানে পার্কিং সহ সমস্ত কিছুর দেখাশোনা আমরা করে থাকি। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটি ঝাঁট দিই। আগে একটা এনজিও সেই কাজ করত কিন্তু তারাও বন্ধ করে দিয়েছে। বক্রেশ্বর নিয়ে সামান্য একটু ভাবনাচিন্তা করলেই জেলার সবথেকে বৃহৎ পর্যটনক্ষেত্র হতে পারে এটি। কেননা ভৌগলিক, ধর্মীয় সমস্ত দিক দিয়েই এখানকার গুরুত্ব অন্যান্য সতীপীঠগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন বক্রেশ্বর নিয়ে তিনি একটু নজর দেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় মানুষদের আরও আক্ষেপ শুধু ‘নাম কে ওয়াস্ত’ একটি বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ করা আছে। না হয় উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক না কোনও আগাম পরিকল্পনা। শাসকদলের কয়েকজন নেতার দিকে এই নিয়ে অনেকেই আঙুল তুলছেন। তবে অবশ্য জেলা পরিষদ সম্প্রতি পাঁচিল তৈরি, ছাউনি তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বক্রেশ্বরে পর্যটকদের থাকার জন্য যে বিশালমাপের লজটি বানানো হয়েছিল সেটি তালাবন্ধ অবস্থাতেই রয়েছে। জানলা, দরজা সব উঁই পোকায় খেয়ে নিয়েছে। সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা যাকে বলে জলে গেল। সেই কারণে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য আবেদন রাখছেন এলাকাবাসীরা। কারোর কারোর আক্ষেপ, বক্রেশ্বর যদি বোলপুর ঘেঁষা হত তাহলে হয়তো সবার একটু নজর পড়ত। এবার ব্রাত্য বক্রেশ্বরের উন্নয়নে আদৌ গতি আসে কিনা তা দেখার বিষয়। এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, খুব শীঘ্রই উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ