দেউচা পাচামি প্রকল্প নিয়ে প্রতিদিনই একধাপ করে এগচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকার। আমরা জানি, এটা আগামী দিনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনির রূপ পাবে। এই প্রকল্প সফল হলে বিদ্যুতের জন্য রাজ্যবাসীকে পরবর্তী ১০০ বছর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না। তার সঙ্গে রয়েছে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানেরও নিশ্চিত সম্ভাবনা। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি নিয়ে বাণিজ্য মহলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এই কাণ্ড বিজেপির মতো ক্ষমতালোলুপ বিরোধী দলের পক্ষে হজম করা সহজ ব্যাপার নয়। কেননা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরিদের বিজয়রথ দিল্লিসহ তামাম ভারত কাঁপিয়ে দিলেও বাংলায় এসে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। এই অতৃপ্তি সঙ্ঘের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে তীব্র মনোকষ্ট দেয়, তাদের একাধিকবার ভারতবিজয়ের গৌরবও যেন অনুজ্জ্বল বলে প্রতিভাত হয় স্রেফ এই কারণে। বাঙালি যেমন কলকাতায় কল্কে না পেলে ‘কুলীন’ বলে গণ্য হয় না, তেমনি বাংলার শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত ছাড়া প্রকৃত শক্তিধরের মর্যাদা পায় না ভারতের কোনও রাজনৈতিক দল। সেই মরিয়া চেষ্টায় নেমে একুশের ভোটে তো পেড়ে ফেলারই হুঙ্কার দিয়েছিল মোদি-শাহদের কমপ্লিট গেরুয়া টিম—তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল ‘দু’শো পার’ করে নবান্ন দখলের! কিন্তু বাস্তবে একশোর অনেক আগেই থমকে গিয়েছিল মোদি-শাহ বাহিনী।
Advertisement
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ দখলের জন্য যে কাজটা প্রথম করা দরকার—বাংলার ও আপামর বাঙালির মন জয়—সে পথে হাঁটার নাম নেই বিজেপির—কারণ তা সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমসাধ্য—অতএব পরিত্যাজ্য—তারা শুধুই বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলা দখলের খোয়াব! স্বপ্নপূরণের এই ভ্রান্ত রাস্তা বিজেপিকে কোনও সৎ পথে পরিচালিত করতে পারে না। তার টাটকা প্রমাণ দেখা গেল দেউচা পাচামিতে। দিনকয়েক আগের ঘটনা। কিছু বহিরাগত লোকজনকে বীরভূমের ‘মূলবাসী’ সাজিয়ে বাংলার এই স্বপ্নের মাইনিং প্রকল্প ভেস্তে দেওয়ার মতলব এঁটেছিল গেরুয়া বাহিনী। বিজেপির এই ভয়াবহ চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গিয়েছে স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের তৎপরতায়। ছবি ও তথ্যসহ তাদের উস্কানির প্রমাণ হাজির করে বিজেপির বিরুদ্ধে স্বভাবতই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই চক্রান্ত ভেস্তে যাওয়ার পর আবিষ্কার হয়েছে বিজেপির আরও বড় খেলা—ভূতুড়ে ভোটারের কারবার। অভিযোগ ইতিমধ্যেই যতটুকু সামনে এসেছে তাতে পরিষ্কার যে, বিজেপি ভোটে কারচুপিতে বাংলায় সিপিএমের ঘৃণ্য জমানাকেও দশ গোল দিতে চায়! স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে অনলাইন ভোটার তালিকার নামে কারসাজি করা হচ্ছে। গেরুয়া পার্টির গোপন প্ল্যান প্রকাশ্যে এনে বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির মতো বুথ স্তরে ‘ভুয়ো ভোটারে’র অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে (মাইক্রোম্যানেজ) কারচুপির ছক কষছে একটি ‘ভূতুড়ে পার্টি’ (পড়ুন বিজেপি)। বহিরাগতদের নাম ভোটার তালিকায় ব্যাপক মাত্রায় ঢুকিয়ে বুথ স্তর থেকে ফলাফল নিজের পক্ষে বানাতে মরিয়া তারা। বিশেষ সূত্র মারফত তাঁদের কাছে খবর, অনলাইনের মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার বৃদ্ধির মতলব এঁটেছে একটি ভূতুড়ে রাজনৈতিক দল (পড়ুন, বিজেপি)।
এ যে নিছক মেঠো অভিযোগ নয়, তারও প্রমাণ মিলেছে—দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি পঞ্চায়েতে সাড়ে চার হাজার ভোটার বৃদ্ধির একটি অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে। ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনিতে দেখা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের পর মাত্র সাত মাসে সেখানে ভোটার বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার! নতুন নাম উঠেছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, শিলিগুড়ির মতো বহু দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজ মিলেছে স্পিকারের কেন্দ্র বারুইপুর পশ্চিমেও। সেখানকার দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বারুইপুর পুর এলাকায় চার হাজার ভুয়ো ভোটার রয়েছে। বাংলায় ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ‘দিল্লি মডেল’-এ কামাল করতেই কি তৎপর বিজেপি? ব্যাপক জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক দলের যোগসাজশেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিমানবাবু। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশন কারা পরিচালনা করে তা সবাই জানে। তবে নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভুয়ো ভোটারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্পিকার। ভুতুড়ে ভোটারের ‘অনুপ্রবেশ’ রুখতে সব জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছে নবান্নও। নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও। তাদের দক্ষ এবং প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষ ভূমিকাই কাম্য। কমিশন যেন কোনোভাবেই কোনও রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত না হয়, এটা তাদের নিশ্চিত করতে হবে। বৃহত্তম গণতন্ত্রের ‘প্রাণভোমরা’ বস্তুত তাদেরই হাতে। গণতন্ত্রের হত্যা নয়, তার মান বৃদ্ধিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরন্তর প্রয়াস দেখতে চায় সারা পৃথিবী।
এ যে নিছক মেঠো অভিযোগ নয়, তারও প্রমাণ মিলেছে—দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি পঞ্চায়েতে সাড়ে চার হাজার ভোটার বৃদ্ধির একটি অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে। ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনিতে দেখা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের পর মাত্র সাত মাসে সেখানে ভোটার বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার! নতুন নাম উঠেছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, শিলিগুড়ির মতো বহু দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজ মিলেছে স্পিকারের কেন্দ্র বারুইপুর পশ্চিমেও। সেখানকার দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বারুইপুর পুর এলাকায় চার হাজার ভুয়ো ভোটার রয়েছে। বাংলায় ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ‘দিল্লি মডেল’-এ কামাল করতেই কি তৎপর বিজেপি? ব্যাপক জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক দলের যোগসাজশেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিমানবাবু। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশন কারা পরিচালনা করে তা সবাই জানে। তবে নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভুয়ো ভোটারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্পিকার। ভুতুড়ে ভোটারের ‘অনুপ্রবেশ’ রুখতে সব জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছে নবান্নও। নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও। তাদের দক্ষ এবং প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষ ভূমিকাই কাম্য। কমিশন যেন কোনোভাবেই কোনও রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত না হয়, এটা তাদের নিশ্চিত করতে হবে। বৃহত্তম গণতন্ত্রের ‘প্রাণভোমরা’ বস্তুত তাদেরই হাতে। গণতন্ত্রের হত্যা নয়, তার মান বৃদ্ধিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরন্তর প্রয়াস দেখতে চায় সারা পৃথিবী।


