গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: শহরের রাস্তাঘাট নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। ধুলো ওড়ায় ছড়াচ্ছে দূষণ। আবার কোথাও রাস্তায় প্রায় সারা বছর জল জমে থাকছে। জমা জলের উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ভোটের সময় রাস্তা সারানোর ঢালাও প্রতিশ্রুতি মেলে। ভোট মিটলেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান কাউন্সিলাররা। বারবার দরবার করেও রাস্তার হাল ফেরে না। তাই বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করাকেই ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছে শহরবাসী। পুরসভা কর্তৃপক্ষ অবশ্য রাস্তার বেহাল দশার কথা মানতে চায় না।
Advertisement
শহরের ১২নম্বর ওয়ার্ডের বড়নীলপুর বাজার থেকে নতুনপাড়া যাওয়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। পিচের আস্তরণ উঠে খানাখন্দ হয়ে রয়েছে। স্টোনচিপ বেরিয়ে রয়েছে। ধুলোয় রাস্তা ভরে গিয়েছে। বড়নীলপুর শান্তিপাড়ার রাস্তাটির অবস্থাও একইরকম। কানাইনাটশাল-শালবাগান রোড, অনুকুল ঠাকুরের আশ্রমের গলির রাস্তাটির অবস্থাও খারাপ। রাস্তার বহু জায়গায় গর্ত রয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইনাটশাল-ডিভিসি রোডটির অবস্থাও খুবই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। রাজলক্ষ্মী কলোনি, বালিডাঙার রাস্তার অবস্থাও খারাপ। ১৪নম্বর ওয়ার্ডের নীলপুর বাজার থেকে সুহৃদপাড়া যাওয়ার রাস্তার বেশকিছু জায়গার অবস্থা খারাপ। ছোটনীলপুর ইটভাটা রোডেরও বেশকিছু জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। ১৫নম্বর ওয়ার্ডের ছোটনীলপুরের ঠাকুরপল্লি-সরিষাডাঙা রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পাথর বেরিয়ে গিয়েছে। ৪নম্বর শাঁখারিপুকুরের মেন এবং ভিতরের দিকে কয়েকটি রাস্তার অবস্থাও খারাপ। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎবেড়ের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে গিয়েছে। মালিরমাঠ সূর্যনগরের রাস্তায় সারা বছর জল দাঁড়িয়ে থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নিকাশি সমস্যার কারণে ড্রেনের জল রাস্তায় পড়ে। ১৭নম্বর ওয়ার্ডের আলমগঞ্জ থেকে ঝুরঝুরেপুল থেকে তেজগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিশাল গর্ত হয়ে রয়েছে। জল জমে রয়েছে। নিকাশি সমস্যার কারণে রাস্তায় সারা বছরই জল জমে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সেখান দিয়েই স্কুলপড়ুয়ারা হেঁটে যাতায়াত করছে। বেহাল রাস্তা দিয়ে পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার সময় রাস্তাটি দিয়ে একেবারে চলাচল করা যায় না। ১৮নম্বর ওয়ার্ডের ভাতছালা থেকে গোলাহাট যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও খারাপ। ভাতছালা থেকে শিশুনিকেতন স্কুল হয়ে বংপুর যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা তথৈবচ। বড়বালিডাঙা-নিমতলা রোড, ১৯ ও ২০নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাগুলির অবস্থাও খারাপ। ২২নম্বর ওয়ার্ডের আলমগঞ্জ মেন রোড, আলমগঞ্জ পুলিস ফাঁড়ির পাশ দিয়ে বারোয়ারিতলা হয়ে তেজগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ৩৫নম্বর ওয়ার্ডের সদরঘাট রোড থেকে বিদ্যার্থী গার্লস হাইস্কুল যাওয়ার রাস্তা বেহাল। ১৮ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ভাতছালার প্রধান রাস্তাটিও বেশকিছু জায়গায় খারাপ। ৩৩ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে যাওয়া ডিএন সরকার রোডেও বেশকিছু জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। নবাবদোস্ত কায়েম লেনের রাস্তাটির অবস্থাও খারাপ। রাধানগর ষষ্ঠীতলা হয়ে যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও খারাপ। সংস্কার হলেও তেলমারুই রোডের কয়েকটি জায়গা কিছুটা খারাপ। শহরের লাইফ লাইন বিসি রোডের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত রয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, শহরের রাস্তার ধুলো একটা বড় সমস্যা। রাস্তার পাশের বাড়িগুলিকে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। এক কাউন্সিলার বলেন, পেভার ব্লক বসাতে গিয়েই যত বিপত্তি। ১০টি রাস্তা পেভার ব্লকের করতে গিয়ে যা খরচ তাতে শহরের ১০০টি পিচরাস্তা হয়ে যেত। অম্রুত প্রকল্পে রাস্তা সারানোর বরাদ্দের টাকার অনেকটাই পেভার ব্লক বসাতে গিয়ে খরচ হয়ে গিয়েছে। কাউন্সিলার রাসবিহারী হালদার বলেন, আমার ওয়ার্ডের পাইপলাইন বসানোর জন্য রাস্তা কাটার পর তার বেশিরভাগটাই মেরামত করা হয়ে গিয়েছে। কিছু রাস্তা খারাপ রয়েছে। সেগুলিও শীঘ্রই সংস্কার করা হবে। রাস্তা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হয়। সেখানে রাস্তাগুলি সংস্কার নিয়ে জোরদার সওয়াল করি। (চলবে)



