Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে বিপত্তি বিষাক্ত গ্যাসের ছোবলে মৃত ২

সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে বিপত্তি বিষাক্ত গ্যাসের ছোবলে মৃত ২
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রবিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানার ভেকুটিয়ায় সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় অুসস্থ হয়েছেন আরও দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আইসিইউয়ে ভর্তি। মৃতদের নাম মৃত্যুঞ্জয় জানা(৬০) ও মানস গিরি(৫৫)। মৃত্যুঞ্জয়বাবুর বাড়ি ওই থানার মনুচক জালপাই গ্রামে। মানসবাবুর বাড়ি মনুচক গ্রামে। গৃহকর্তা কানাইলাল জানা হাসপাতালে সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁর পুত্রবধূ ঝুমা জানাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
Advertisement
এদিন সকাল ৮টা নাগাদ কানাইলালবাবুর বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল। মনুচক জালপাই গ্রাম থেকে মিস্ত্রি মৃত্যুঞ্জয়বাবু এসেছিলেন। কানাইলালবাবুর বেয়াই মানসবাবু ওই মিস্ত্রিকে এনেছিলেন। সাড়ে ৮টা নাগাদ ট্যাঙ্কের ঢাকনা তুলে কিছুটা জল তুলে মই নামিয়ে প্রথমে মিস্ত্রি মৃত্যুঞ্জয়বাবু ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে কোমরসমান জল ছিল। বিষাক্ত গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধে মৃত্যুঞ্জয়বাবু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে সাহায্য করতে নেমে সংজ্ঞাহীন পড়ে পড়েন মানসবাবুও। ট্যাঙ্কের ভিতর আস্ত দু’জন মানুষ ঢুকে পড়ার পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় গৃহকর্তা কানাইলাল জানার। তিনি সাহায্য করার জন্য সিঁড়িতে পা দিয়ে নামতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে জ্ঞান হারান। পরপর তিনজনকে এভাবে ট্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে যেতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন কানাইলালবাবুর বড় পুত্রবধূ ঝুমা জানা। নিহত মানসবাবু ঝুমার বাবা। বাবা, শ্বশুর সহ তিনজনের বিপদ বুঝে তিনি কিছুটা নেমে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, মাথা ঘুরে যাওয়ায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তিনি কোনওরকমে উপরে উঠে আসেন।
ওই ঘটনার পর গৃহকর্তা কানাইলালবাবুর স্ত্রী কাজল জানা চিৎকার করে পাড়া প্রতিবেশীদের সাহায্য চান। আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা পর পর তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বাইরে বের করে আনেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কানাইলালবাবু সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁর ছেলে পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার প্রসেনজিৎ জানা বলেন, অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। এদিন সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। সেইসময় এই ঘটনা ঘটেছে।
কয়েকদিন আগে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার সময় ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে না। যেকারণে নন্দীগ্রামে এতবড় ঘটনা ঘটল। সুরক্ষা ছাড়া এধরনের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার পবিত্র হালদার বলেন, মোট চারজনকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আরও একজনকে অবজার্ভেশনে রাখা হয়েছিল। আপাতত বিপন্মুক্ত। তিনি সিসিইউতে আছেন। একজন গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে এই ঘটনা ঘটেছে। কানাইলালবাবুর স্ত্রী কাজল জানা বলেন, আমাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে পাড়া প্রতিবেশীরা এসে সাহায্য করেছেন। কিন্তু, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই বেয়াই সহ দু’জনের মৃত্যু হয়। এভাবে বিপদ আসবে ভাবতেও পারিনি। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, ঘটনার তদন্ত হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ