সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভালোবাসার বয়স নেই। বৃদ্ধ বয়সেও মনে বসন্তের উদয় হতে পারে। এটা শুধু কথার কথা নয়। সম্প্রতি বর্ধমান আদালতে হওয়া কয়েকটি ডিভোর্স মামলার তথ্য দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিকের কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। তিনি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স মামলা করেছেন। শেষ বয়সে এসে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। অন্যপক্ষ দাবি করে, অবসরপ্রাপ্ত ওই আধিকারিকের সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্ক রয়েছে। সেটা জানাজানি হওয়ার পরই অশান্তি শুরু হয়। শেষে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু ওই আধিকারিক নয়, ৬০ পেরনোর পর আরও অনেকেই বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী-আধিকারিক।
ম্যারেজ অফিসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জ্যোৎস্না মাহাত বলেন, পাঁচ-ছ’বছরের মধ্যে বৃদ্ধদের রেজিস্ট্রি করার প্রবণতা বেড়েছে। ৭০বছর বয়সেও রেজিস্ট্রি করার রেকর্ড রয়েছে। শুধু পূর্ব বধমান নয়, সব জেলাতেই এই প্রবণতা বাড়ছে। বর্ধমান আদালতের আইনজীবী অনীশ দাস বলেন, এটা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অল্পবয়সিদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রবণতা আগেই বেড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, হাস্যকর যুক্তি নিয়ে অনেকে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আসছেন। বেশি বয়সে পুরুষদেরই নতুন করে বিয়ে করার প্রবণতা বেশি। কয়েকদিন আগে বর্ধমান শহরের এক বৃদ্ধ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য এসেছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কর্মজগতে মহিলাদের সঙ্গে কেউ কেউ সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। অবসর নেওয়ার পরও তাঁরা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। বাড়িতে অশান্তি শুরু হচ্ছে। একসময় তা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সেইসময় তাঁরা বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে আবার নতুন সম্পর্ক শুরু করছেন।
এক আধিকারিক মজা করে বলেন, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে অবশ্য তেমনটা হয়নি। চুলে পাক ধরার পরই তাঁর মনে বসন্তের উদয় হয়। ধুমধাম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তাঁকে দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন। যদিও তাঁর মতো অনেক সেলিব্রেটিরই বেশি বয়সে বিয়ে করার উদাহরণ রয়েছে। এতদিন সেসব একটি গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই গণ্ডির পরিধি বেড়েছে। জেলাগুলিতেও বৃদ্ধদের অনেকের মনে দ্বিতীয়বার বসন্তের উদয় হচ্ছে।