


বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: স্বাধীনতার আগে বজবজ ছিল সুভাষচন্দ্র বসুর অন্যতম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র। কবি নজরুল ইসলাম এখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে গিয়েছেন। বজবজে কোমাগাতামারু জাহাজ থেকে নামিয়ে একদল স্বাধীনতা সংগ্রামীকে গুলি করে হত্যা করেছিল ব্রিটিশরা। বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকা থেকে ফিরে প্রথম পা রেখেছিলেন বজবজে। বজবজ এক পবিত্র পুণ্যভূমি এমনই দাবি সেখানকার বাসিন্দাদের। অতীন হালদার নামে এক ব্যক্তি এই ঐতিহাসিক ভূমির গৌরবগাথা প্রচারে বজবজ থেকে কন্যাকুমারী রক রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিবেকানন্দর ধ্যানক্ষেত্র পর্যন্ত ২ হাজার ৪৮৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চলেছি।’ মহালয়ার দিন তিনি বজবজ থেকে রওনা দেন। পিঠে একটি ব্যাগ। তার গায়ে ভারতের পতাকা। নীচে বিবেকানন্দর ছবি। লেখা রয়েছে, যাত্রাপথ বজবজ থেকে কন্যাকুমারী রক।
বজবজের বাসিন্দা অতীনবাবু। তাঁর বয়স ৬৫। এর আগেও কোমাগাতামারুর হত্যার ঘটনা এবং পঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ইংরেজদের গণহত্যার ঘটনা জানাতে পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন জালিয়ানাওয়ালাবাগ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ অতীনবাবু ফোনে জানান, তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকুলামের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন। রাতে কোনও মন্দির বা অতিথিনিবাসে থাকবেন। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার হাঁটছেন। কখনও নদী পেরতে হচ্ছে। কখনও জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। পথে মানুষের সহযোগিতা পাচ্ছেন। কোথাও কোনও অসুবিধা হয়নি। অনেকে বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রণও করেছেন। দিনে হয় বিস্কুট না হলে উপবাস। রাতে রুটি। এই খাচ্ছেন প্রতিদিন। নভেম্বরের শেষে পৌঁছবেন কন্যাকুমারী রক। সেখানে ধ্যানে বসবেন। বিবেকানন্দর আশীর্বাদ প্রার্থনা করবেন।