নয়াদিল্লি: প্রয়াস শুরু হয় অনেক আগেই। কিন্তু নানা কারণে বার বার তা আটকে গিয়েছিল। অবশেষে সোমবার লোকসভায় পাশ হল স্পোর্টস বিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। একই সঙ্গে পাশ হয়েছে জাতীয় অ্যান্টি ডোপিং বিল। আসলে ২০৩৬ সালে ওলিম্পিক গেমস আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে ভারত। তার জন্য দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের পাশাপাশি ডোপিং আইনেও সংশোধন প্রয়োজন। লোকসভায় এই বিল পেশের সময় বিরোধী দলগুলির অধিকাংশ সদস্যই অনুপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ধ্বনি ভোটে পাশ হয় ক্রীড়া বিল। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই বিল পাশ হওয়ায় দেশের ক্রীড়াসংস্থাগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ আরও বাড়বে। কারণ, ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ডের তিন সদস্যকেই নিয়োগ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
দেখে নেওয়া যাক এই বিলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ—
ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড: এই সংস্থার অনুমোদন ছাড়া কোনও ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে অনুদান পাবে না। বিসিসিআইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্বশাসিত সংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে বোর্ড কোনও অনুদান নেয় না। তবে ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড অভিযোগ পেলে যে কোনও সংস্থা বা কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করতে পারবে।
ন্যাশনাল স্পোর্টস ট্রাইব্যুনাল: বৈষম্য, দুর্নীতি কিংবা অন্য কোনও গুরুতর অভিযোগের বিচার হবে ন্যাশনাল স্পোর্টস ট্রাইবুনালে। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করা যাবে না। একমাত্র সুপ্রিম কোর্টেই আবেদন করা যাবে।
প্রশাসকদের বয়সসীমা: ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যদি সেই সংস্থার উর্ধ্বতন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনে সেই নিয়ম থাকে। এতদিন জাতীয় ক্রীড়া আইনে ৭০ বছর ছিল নির্বাচনে লড়াইয়ের ঊর্দ্ধতম সীমা। এটা মেনে চলে বিসিসিআই। লোধা কমিটির প্রস্তাব মেনে ক্রিকেট কর্তাদের বয়সের ক্ষেত্রে ৭০ বছরই ঊর্দ্ধসীমা। কিন্তু স্পোর্টস বিলের আওতায় চলে এলে বোর্ড কর্তারা ৭৫ বছর বয়সেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
বিসিসিআইকে বিশেষ ছাড়া: ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, অ্যাথলেটিকল অ্যাসোসিয়েশনের মতো অধিকাংশ সংস্থাই কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান পায়। বিসিসিআই কোনও অনুদান নেয় না। তাই অন্য সংস্থাগুলিকে আরটিআইয়ের আওতাভুক্ত করা হলেও ছাড়া দেওয়া হচ্ছে বিসিসিআকে।
স্পোর্টস বিল লোকসভায় পাশ হওয়ার পর তৎপরতা শুরু হয়েছে বিভিন্ন ক্রীড়াসংস্থায়। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সংবিধান সংক্রান্ত মামলা ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। স্পোর্টস বিল চালুর পর জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার। পাশাপাশি ক্রিকেট সার্কিটেও কুলিং অফ এবং বয়সের উদ্ধসীমা বৃদ্ধি নিয়েও চর্চা তুঙ্গে। ভোটে লড়ার বয়স ৭৫ করা হলে রজার বিন্নি ফের বোর্ড সভাপতি হতে পারেন। তবে সেপ্টেম্বরে রয়েছে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সেদিকেই চোখ সকলের। একই সঙ্গে সিএবি’র নির্বাচনও হবে সেপ্টেম্বরে। সেখানে সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তবে স্পোর্টস বিল চালু হলে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের গ্রহণ যোগ্যতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে সকলেই সন্দিহান। তাই বোর্ড এবং বাকি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার এজিএমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।