নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের (ইউএমএমসি) চিকিৎসকরা চোখের ভিতর দিয়ে পথ তৈরি করে মেরুদণ্ডের মারাত্মক এক টিউমারের অস্ত্রোপচার করেছেন। শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ এক ধরনের আবিষ্কারই বটে। যে কোনও সার্জনের পক্ষে হুট করে এই ধরনের কাজ করা কার্যত অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, ১৯ বছর বয়সি কার্লা ফ্লোরেস নামের এক তরুণীর সার্ভাইকাল স্পাইন বা ঘাড়ের কাছের মেরুদণ্ডে একটি বিরল ও বিপজ্জনক টিউমার ধরা পড়ে। টিউমারটির নাম হল কর্ডোমা। টিউমারটি তাঁর মেরুদণ্ড এবং স্পাইনাল কর্ড—দুটিকেই জড়িয়ে ধরেছিল। ফলে কার্লার জীবনও ঝুলছিল সরু সুতোর উপর!
সমস্যা হল, প্রচলিত পদ্ধতিতে অপারেশন করলে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু এবং রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওটি টেবিলেই মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। এই পরিস্থিতিতে ডঃ লাবিব এবং তাঁর দল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েটির প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা অপারেশনের এক নয়া পথের উদ্ভাবন করেন। এই অবিশ্বাস্য ‘ট্রান্সঅরবিটাল’ পদ্ধতিতে সার্জনরা চোখের মণির নিচ দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করেন। এই পথকে বলা হয় ‘ট্রান্স অরবাইটাল স্পেস’। এভাবে পৌঁছে যান অক্ষিগোলকের পিছনে অপটিক নার্ভে, সরাসরি টিউমারের কাছে। ফলে বাইরে থেকে কাটাছেঁড়ার দাগ তো পড়লই না, উল্টো ব্রেন ও স্পাইনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হল। এই নয়া পথ মিনিম্যালি ইনভেসিভ নিউরোসার্জারির জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এমনই মনে করছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে ২০ বছর বয়সি কার্লা ফ্লোরেস সুস্থতার পথে। রাজ্যের চোখের চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্র রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অবথালমোলজি’র (আরআইও) প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ অসীম ঘোষ বলেন, এই পথ দিয়ে মেরুদণ্ডের টিউমারের অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে ঝড়ের মধ্যে ট্রেকিং করার মতোই কঠিন। সাহস, স্কিল, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে সম্বল করে ওই চিকিৎসকদল অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ওঁদের কুর্নিশ জানাই।