নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে বহির্বিভাগের ফাঁকিবাজ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিষেবায় ফাঁকি দিয়ে নার্সিংহোম কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় কাটানোর অভিযোগে চিহ্নিত চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত নিশ্চিত করতে জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, ‘সকাল ন'টার মধ্যেই বহির্বিভাগ শুরু করতে বলা হয়েছে। আমরা চিকিৎসকদের রিমাইণ্ডার দিয়েছি, বহির্বিভাগের সময় বাইরে প্র্যাক্টিস করা যাবে না।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, সরকারি হাসপাতালে ডিউটি করার বদলে বহু চিকিৎসককে দেখা যেত বেসরকারি নার্সিংহোম কিংবা নিজেদের চেম্বারে। যার প্রভাব পড়ত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায়। সেই অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি নদীয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালও।
দীর্ঘদিন ধরেই রোগীদের অভিযোগ ছিল, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসকের দেখা মিলত না। নিয়ম অনুযায়ী বহির্বিভাগ সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বহু চিকিৎসককে অনেক পরে হাসপাতালে পৌঁছতে দেখা যেত। আবার অনেকেই দুপুর ২টো বাজার আগেই কিংবা রোগী দেখা শেষ না করেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতেন বলে অভিযোগ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তেন রোগীরা।
অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের ডিউটির সময়েই কিছু চিকিৎসক ব্যক্তিগত নার্সিংহোম বা চেম্বারে রোগী দেখতেন। সেই কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এমনকী, হাসপাতাল সূত্রে দাবি, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সেই আবহেই এবার শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহির্বিভাগের পরিষেবাকে নিয়মের মধ্যে আনতে সক্রিয় হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, যে সব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরিতে আসা বা বহির্বিভাগ ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠত, তাঁদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই ‘রিমাইন্ডার’ পাঠানো হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বহির্বিভাগে উপস্থিত থেকে রোগী দেখতে হবে।
সম্প্রতি জেলা হাসপাতালের তরফে জারি হওয়া এক কড়া নোটিসে বলা হয়েছে, বহির্বিভাগের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসারদের সকাল ৯টার মধ্যেই রোগী দেখা শুরু করতে হবে। দুপুর ২টো অথবা শেষ রোগী না দেখা পর্যন্ত তাঁদের বহির্বিভাগে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
শুধু চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই নয়, হাসপাতালের সহায়ক পরিষেবাতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা হাসপাতালের দুই সহকারী সুপারকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই টিকিট কাউন্টার ও বহির্বিভাগ সংক্রান্ত সমস্ত সহায়ক পরিষেবা চালু করতে হবে। যাতে রোগীদের অযথা অপেক্ষা করতে না হয়।
নদীয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। জেলার দূরবর্তী করিমপুর, তেহট্ট, চাপড়া সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বহু রোগী এখানে ভিড় করেন। ফলে প্রতিদিন বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। আর সেই জায়গাতেই বহির্বিভাগের অনিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।