নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের দল নির্বাচনে বড় চমক ছিল অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে রোহিত শর্মার অপসারণ। ২০২৭ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে শুভমান গিলের উপর ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা। অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে পরের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের জন্য ভাবা হচ্ছে না?
এর সুস্পষ্ট কোনও উত্তর আপাতত নেই। তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট, একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েই তৃতীয়বার ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ঝাঁপাতে চাইছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তারই প্রথম পদক্ষেপ রোহিতকে সরিয়ে গিলকে ওয়ান ডে দলের অধিনায়ক করা। আসলে রোহিত ও কোহলি টি-২০ ক্রিকেট থেকে আগেই অবসর নিয়েছেন। বিদায় জানিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটকে। শুধু আঁকড়ে রয়েছেন ওয়ান ডে ফরম্যাটকে। তার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। শেষবার দুই মহাতারকা দেশের জার্সিতে খেলেছিলেন মার্চে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। কোহলি সপরিবারে লন্ডনে। মাঝে মধ্যে তাঁকে ব্যাট হাতে প্র্যাকটিসে দেখা যায় ঠিকই, তবে খুব বেশি সময় ক্রিকেটের পিছনে দিতে পারছেন না। রোহিতের অবস্থাও তাই। তিনিও ইতি-উতি প্র্যাকটিস করছেন ফিট থাকার জন্য। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দরকার নিয়মিত ম্যাচ প্র্যাকটিস। এই বিষয়ে কোহলি, রোহিত অনেক পিছিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ শুরু ১৯ অক্টোবর। আর তা হতে চলেছে কোহলি, রোহিতের কামব্যাক মঞ্চ। ভারতের জার্সিতে তাঁরা শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ৫ মার্চ। অর্থাৎ ২২৪ দিন পর তাঁরা ফের মাঠে নামতে চলেছেন। এতদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে থেকে ফর্ম ধরে রাখা কঠিন। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট অন্তত তেমনটাই আশঙ্কাই করছে। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অনেকে কোহলি, রোহিতদের বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা তাতে সাড়া দেবেন কিনা সময় বলবে।
তবে রোহিত, কোহলির অবসর জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ান ডে সিরিজ খেলেই হয়তো পাকাপাকিভাবে ক্রিকেটকে আলবিদা জানাবেন তাঁরা। তাই অধিনায়কত্ব হারালেও রোহিত চুপই থেকেছেন। আগ্রহ কমছে কোহলিরও। দুই মহাতারকাকে ডনের দেশেই হয়তো বিদায়ী ম্যাচ খেলা এবং সংবর্ধনার সুযোগ করে দিতে পারে বিসিসিআই। তবে রোহিতের ছোটবেলার কোচ দীনেশ লাড জানিয়েছেন, ‘২০২৭ বিশ্বকাপে খেলবে রোহিত এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সাহায্য করবে। ও পাশে থাকলে অধিনায়ক হিসেবে গিলের কাজ অনেক সহজ হবে।’