Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঠাকুরবাড়ি যেতেই মুকুটমণির দলবদলে জল্পনা, সবার জন্য অবারিত দ্বার, দাবি মতুয়াদের

আবার কি ফুল বদল মুকুটমণি অধিকারীর? জেলাজুড়ে এখন এই জল্পনায় চলছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় বনগাঁর ঠাকুরবাড়িতে যান বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী

ঠাকুরবাড়ি যেতেই মুকুটমণির দলবদলে জল্পনা, সবার জন্য অবারিত দ্বার, দাবি মতুয়াদের
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রানাঘাট: আবার কি ফুল বদল মুকুটমণি অধিকারীর? জেলাজুড়ে এখন এই জল্পনায় চলছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় বনগাঁর ঠাকুরবাড়িতে যান বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। সেখানে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়। তারপর থেকেই মুকুটমণিকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে। এনিয়ে সরগরম জেলার রাজনীতি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর  লোকসভা ভোটের মুখে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন মুকুটমণি। পরবর্তীতে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। গত শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে আসতেই ভোটের আগে ফের দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়।
যদিও মুকুটমণি বলেন, আমি নতুন গাড়ি কিনেছি। তাই বড়মাকে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। এর আগেও আমি ঠাকুর বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাই এখন বিতর্ক হচ্ছে কেন? ঠাকুর বাড়িতে গিয়েছিলাম সেই সূত্রেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক কোনো কথা আলোচনা হয়নি। যাঁরা এটাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন, তাঁদের জানা উচিত বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারও ঠাকুর বাড়ি গিয়ে মমতা বালার পা ধরে কান্নাকাটি করেছিলেন। তখন তো কোনো বিতর্ক হয়নি। ওইদিন শুধু শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে নয়, আমি মমতা বালার সঙ্গেও সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলাম। আমরা নতুন কিছু কিনলে ঠাকুর বাড়িতেই পুজো দিতে আসি। এটা নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, গত দু’বছর ধরে ঠাকুর বাড়ির কোনো সংগঠনের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। কিন্তু, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে মতুয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সেই কারণে একটা বিরাট অংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আর আমি ঠাকুর বাড়িতে যাব, তার জন্য কী আমাকে কাউকে বলে যেতে হবে?
এপ্রসঙ্গে রানাঘাটের সাংসদ বিজেপির জগন্নাথ সরকার বলেন,  ওর এখন ভয় ধরেছে। একুল-ওকুল দুকুলই গিয়েছে। তাই বিজেপিতে আসতে চাইছে। উপনির্বাচনে পুলিশকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি কর্মীদের মারধর করে ও ভোটে জিতেছে। এখন ওকে যদি দল নেয়, তাহলে আগামী দিনে ওই এলাকার কর্মীরা বিজেপি করবে কি না সন্দেহ আছে।
যদিও এই বিতর্ক সম্পূর্ণ বিজেপির তৈরি করা বলে দাবি করেছেন ভারতীয় মতুয়া সংঘের নদীয়া জেলার জেনারেল সেক্রেটারি পরিমল বিশ্বাস। তিনি  বলেন, ঠাকুর বাড়ি সবার। সেখানে সবাই যেতে পারে। মুকুটমণি অধিকারী মতুয়াদের নয়নের মণি। তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্য বিতর্ক তৈরি করছে কেউ কেউ। তবে যারা এই বিতর্ক তৈরি করছে, তাদের আমরা বলতে চাই এক যে বিপুল সংখ্যক মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের কী হবে? আমরা শুরু থেকে চেয়ে এসেছি নিঃস্বার্থ নাগরিকত্ব। সে বিষয়ে জবাব দিক। ঠাকুর বাড়িতে কে গেল, কি করল, এসব নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধীদের একাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ