নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান খুনে এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা। তিন-চার জনকে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান খুনে এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা। তিন-চার জনকে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ পার্টি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে প্রথমে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি রাজ্জাককে। দলীয় নেতা খুনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই খুন করেছে রাজ্জাককে।’ কিন্তু মৃত রাজ্জাকের দাদা আব্দুল কাদের শুক্রবার শওকত মোল্লার এই দাবি নস্যাৎ করে বলেছেন, ‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই আমার ভাই খুন হয়েছে।’ রাজ্জাক খুনের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আরাবুল ইসলামও।
প্রশ্ন উঠছে, কেন খুন হতে হল শাসক দলের জনপ্রিয় নেতা রাজ্জাককে? স্থানীয় সূত্রের খবর, ভাঙড়ে পালাবদলের পর একদা আরাবুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ রাজ্জাক শওকত শিবিরে ভিড়েছিলেন। শাসক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার হাত মাথায় থাকায়, এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ছিল। আবার বিজয়গঞ্জ বাজারের দখলদারি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে টানাপোড়েন চলছিল। তবে দলের প্রভাবশালী একটি মহলকে কোনও কারণে চটিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্জাক। যার মাসুল দিতে হল তাঁকে। রাজ্জাকের মৃত্যু নিশ্চিত করতে, তাঁকে খুব কাছ থেকে পরপর চারবার গুলি করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপানো হয়েছে!
বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা। রাত দুটো পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। শুক্রবার সকালে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার, যুগ্ম কমিশনার (মর্ডানাইজেশন) নীলাঞ্জন বিশ্বাস ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। ঘটনাস্থলে আনা হয় পুলিস কুকুর। পুরো এলাকা কার্যত বনধের চেহারা নিয়েছে। এলাকায় পুলিস পিকেট বসেছে।
কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, নিখুঁত পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তৃণমূল নেতা রাজ্জাককে। আততায়ীরা খুনের জন্য এমন নির্জন জায়গা বেছে নিয়েছে, যার একদিকে ভেড়ি, অন্যদিকে ঝোপঝাড়! সিসি ক্যামেরা তো দূর, ঘটনাস্থলে সামান্য আলোটুকুও নেই! ফলে তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিসকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এমন কেউ রয়েছে, যে পার্টি অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকে শেষ মহূর্তের গতিবিধি পৌঁছে দিয়েছিল আততায়ীদের। শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের শেষে নিহত তৃণমূল নেতার দেহ এলাকায় পৌঁছলে হাজার দেড়েক মানুষ মিছিল করে এই খুনের প্রতিবাদ জানান।