Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

চীন-রাশিয়া-ভারত-জাপানকে নিয়ে মার্কিন জোট, বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কৌশল ঘিরে জল্পনা

বিশ্ব রাজনীতি এবং কূটনৈতিক সমীকরণ কি আমূল বদলাতে চলেছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দ্রুত বদলে যাচ্ছে দুনিয়া।

চীন-রাশিয়া-ভারত-জাপানকে নিয়ে মার্কিন জোট, বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কৌশল ঘিরে জল্পনা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতি এবং কূটনৈতিক সমীকরণ কি আমূল বদলাতে চলেছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দ্রুত বদলে যাচ্ছে দুনিয়া। সাম্প্রতিককালে সবথেকে বড় চর্চা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে, তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শিয়রে? সেই যুদ্ধ কি পরমাণু অস্ত্রের হবে? ঠিক এই আতঙ্কের আবহে আচমকা আন্তর্জাতিক মহল সরগরম একটি রিপোর্ট ও জল্পনা নিয়ে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সমীক্ষক সংস্থা ‘ডিফেন্স ওয়ান’ একটি রিপোর্টে দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটন নাকি একটি অভিনব নয়া আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রগোষ্ঠী তৈরির ব্লুপ্রিন্ট করে ফেলেছে। একই কথা বলেছে মার্কিন মিডিয়া সংস্থা পলিটিকো। তারা বলেছে, এই সংক্রান্ত প্রস্তাব লিখিতভাবে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির বৈঠকে নাকি বিলিও করা হয়েছে। পূর্বের যাবতীয় রাষ্ট্রগোষ্ঠীর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এই নয়া গোষ্ঠীর নাম হবে ‘কোর ফাইভ’। সংক্ষেপে ‘সি-ফা‌ইভ’। থাকবে বিশ্বের পাঁচটি শক্তিশালী এবং জনসংখ্যার দেশ।  আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। এই ‘কোর ফাইভ’ গোষ্ঠীর সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, ইউরোপের কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। উলটে চীন, ভারত, জাপানের মতো তিনটি এশিয়ার দেশ থাকবে। আবার ইউরেশিয়ার প্রতিনিধি রাশিয়াও উপস্থিত। অর্থাৎ এই জল্পনা যদি সত্যি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে এশিয়াই হতে চলেছে ভবিষ্যতে সবথেকে ক্ষমতাবান গোষ্ঠী। 

Advertisement

মার্কিন শিবির, সোভিয়েত শিবির, জি-৮, জি-২০, জি-৭, সার্ক, আসিয়ান, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন অথবা ন্যাটো কিংবা হাল আমলের কোয়াড ও ব্রিকস—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরবর্তী দুনিয়ায় প্রায় প্রতিটি দশকে বিভিন্ন রাষ্ট্রগোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক ক্ষমতামঞ্চ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিরোধী রাষ্ট্রেরা পৃথক গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে একে অন্যকে নানাবিধ নরম গরম বার্তা দিয়েছে বিগত ৮০ দশক ধরে। এই মঞ্চগুলি বস্তুত হয়ে এসেছে ক্ষমতা ও গোষ্ঠীশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম। কিন্তু এই সব গোষ্ঠীকে বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া কৌশল বিশ্বজুড়ে জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
ভারত সরকারের অন্দরেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল গুঞ্জন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফোনালাপের পর দ্বিগুণ হয়েছে চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা ছাড়াও কি এই ‘কোর ফাইভ’ নিয়ে কোনও আভাস দিতেই ফোন করেছিলেন ট্রাম্প? ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ইজরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করা অন্যতম এজেন্ডা। আর চিরন্তন রাশিয়া ও চীন নীতি থেকে আমেরিকাকে বের করে এনে একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক একমেরু অক্ষ স্থাপনের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও এই অক্ষ নির্মাণের শর্ত কী হবে সেটা সম্পূর্ণ না জেনে এই চারটি দেশ রাজি হবে কি না, সব্যাপারে সন্দিহান বিশেষজ্ঞ মহল। কিন্তু প্রস্তাবটি বস্তুত চুড়ান্ত অনুমোদনের খুব কাছেই বলে দাবি করা হচ্ছে। যদি এই কোর ফাইভ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির অভিমুখ বদলে যেতে পারে। এই অভিমুখের প্রধান লক্ষ্য অস্ত্র নয়, বাণিজ্য! ভবিষ্যতে এই পাঁচ দেশই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করবে পৃথিবীর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ