মা শিবানীর ৬০তম জন্মদিনে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ভোগ
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের শিবানী পীঠে শিবানী মায়ের আগের নাম ছিল ভবানী। ভট্টাচার্য পরিবারের এক পূর্বপুরুষকে মা স্বপ্নাদেশে জানিয়েছিলেন, তিনি আর ভবানী নামে পরিচিতা হতে আগ্রহী নন। এর কিছুদিন আগে ভট্টাচার্য পরিবারের পূর্বপুরুষ দুর্গাদাসের স্ত্রী একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। তাঁর নামকরণ হয় শিবানী। মা জগন্মাতা তখন স্বপ্নাদেশে দুর্গাদাসকেও বলেছিলেন, শিবানী নামেই তাঁর পরিচিতি হোক। তখন থেকেই ভবানীর পরিবর্তে মায়ের নামকরণ হয় মা শিবানী। সেই নামেই আজও তাঁর আবাস পুণ্যতীর্থ শিবানী পীঠ নামে পরিচিত। এবার শিবানী মায়ের ৬০ তম জন্মদিন। তাকে কেন্দ্র করে রাস্তা থেকে মন্দির আলোকমালায় সেজে উঠেছে। পরিবারের সদস্য ফাল্গুনী ভট্টাচার্য বলেন, এবার দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়েছে। 

Advertisement

মা শিবানীর নিত্য আরাধনা হয় মন্দিরে। রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষজন ছুটে আসেন মায়ের দর্শন নিতে। সম্পূর্ণ নিম কাঠের তৈরি মায়ের দারুময় কৃষ্ণবর্ণ কালিকা মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন শ্রীমন্ত ভাস্কর। সন্তান বাৎসল্যে মায়ের মুখটি যেন জীবন্ত। মায়ের সেই দারুময় মূর্তি শ্যামাপূজোর আগের দিন ভট্টাচার্য পরিবারের শ্রীমতি নিরুপমাদেবীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ভাস্কর। নিরুপমাদেবী আবার সেই মূর্তি পুজো করার জন্য দুর্গাদাসের হাতে তুলে দেন। তেমনই ছিল মায়ের আদেশ।
জানা গিয়েছে, পরিবারের সদস্যা নিরুপমাদেবী তিনবার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। একবার স্বপ্নাদেশে বলা হয়েছিল, পঞ্চাননতলার পুকুরে মায়ের ঘট আছে। পরবর্তী কালে সেই ঘট স্থাপন করা হয়। এরপরে ১৯৬৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন পরিবারের পূর্বপুরুষ দুর্গাদাস ভট্টাচার্য। শিবানী পীঠের মন্দিরে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার শান্তির জল দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য ফাল্গুনী ভট্টাচার্য বলেন, মায়ের কাছে মন থেকে যা চাওয়া হয় মা দেন। হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে মায়ের টানে। পুজোর দিন মন্দিরে ভিড় উপচে পড়ে।