নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটা সময় ছিল যখন ভারতীয় ক্রিকেটাররা প্র্যাকটিসের চেয়ে বিশ্রাম নিতেন বেশি। জেটল্যাগ, ওয়ার্কলোড সহ নানা অজুহাতে হোটেলেই বন্দি রাখতেন নিজেদের। জমানা বদলেছে। বদলেছে ক্রিকেটারদের চিন্তাভাবনাও। টাটকা উদাহরণ শুভমান গিল। তিন ফরম্যাটেই খেলছেন। টেস্ট ও ওয়ান ডে’তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম ইন্ডিয়াকে। এক দেশ থেকে অন্য দেশ, এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাট— সুইচ অন করার চ্যালেঞ্জ সামলেই সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরার জন্য অনুশীলনেও নিংড়ে দিচ্ছেন নিজেকে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই ছবি ধরা পড়ল ক্রিকেটের নন্দন কাননে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে অপশনাল প্র্যাকটিস রেখেছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। ক্যাপ্টেন গিল চাইলেই বিশ্রাম নিতে পারতেন। কিন্তু তাঁর অভিধানে এই শব্দটাই যে নেই। রবিবার রাতে ব্রিসবেন থেকে সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো। তারপর থেকে টানা প্রস্তুতি নিয়েই তিনি ব্যস্ত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে সময় কাটিয়ে আরও নিখুঁত করে তোলার প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়। কখনও স্পিনের বিরুদ্ধে, কখনও পেস সামলে প্রোটিয়া বাহিনীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেকে তৈরি করলেন গিল। প্রথমবার ইডেনে টেস্ট খেলতে নামছেন। তাই কিছুটা আবেগতাড়িত। এই মাঠেই তাঁর আইপিএলে হাতেখড়ি। গিল বললেন, ‘ইডেন আমার সেকেন্ড হোম। পাঞ্জাবের সঙ্গে অনেক মিল পাই এখানকার। ছ’বছর আগে গোলাপি টেস্ট হয়েছিল ইডেনে। মাঠের বাইরে থেকে দেখেছিলাম। ঐতিহাসিক ভেন্যুতে কাল টেস্ট খেলতে নামব। তাই একটু বেশিই উত্তেজিত।’
বাঁ হাতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারত অধিনায়কের দুর্বলতা নতুন নয়। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা দলে রয়েছেন তেমনই দুই বোলার কেশব মহরাজ ও সেনুরাম মুথুস্বামী। পাকিস্তানে দু’জনেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে ভারতে এসেছেন। তাই গুরু গম্ভীরের ক্লাসে বিশেষ মহড়া সেরে নিলেন গিল। কুলদীপ ও অক্ষর— দুই বাঁ হাতির বিরুদ্ধে বাড়তি কিছুটা সময় ব্যয় করলেন পাঞ্জাব কা পুত্তর। সামান্য ভুলচুক চোখে পড়তেই এগিয়ে গেলেন কোচ গম্ভীর। হাতে-কলমে ব্যাক লিফট নিয়েও চলল চর্চা। বাধ্য ছাত্রের মতো শুনলেন গিল। বড় পরীক্ষার আগে এটাই যেন লাস্ট মিনিট সাজেশন।
টেস্ট ক্রিকেটে গিলের ব্যাটিং গড় ৪৩.০১। খেলেছেন ৩৯টি ম্যাচ। তবে তাঁর প্রতিভার তুলনায় এই গড় অবশ্যই একটু কম। তাই গিল সতর্ক, সাবধানীও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে দুরন্ত শতরান হাঁকিয়েছিলেন। লাল বলে এবার আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্রোটিয়াদের হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার অধরা লক্ষ্য পূরণের পথে আর এক কদম এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য গিলের। বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো দল। এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জানি, লড়াই সহজ হবে না। তবে আমরা তৈরি।’