সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: উত্তর শহরতলীর ব্যস্ততম রাস্তা এবং দ্রুতগতিতম রাস্তা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে বেশ কয়েকজন পথ দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। তবে তারা সবাই বাইক আরোহী। বাইকের গতি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার করা হলেও রীতিমতো থোরাই কেয়ার। জয় রাইড এর অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দ্রুততম গতির রাস্তা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। আর যার ফলে দুর্ঘটনাবলির সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে।
পূজার দিনগুলিতে সুষ্ঠু ট্রাফিক পরিষেবা দিতে ব্যারাকপুর ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রন করেছে। দ্রুতগতিসম্পন্ন কল্যানী এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এখানে গাড়ির গতিবেগ সবোর্চ ৫০ কিমির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য নির্দেশিকা জারী হয়েছে। এবং রাস্তার সর্বত্র দুধারে এই নির্দেশিকা জানিয়ে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলছে মাইকিং ও। অত্যাধিক গতিতে চালানো বাইক ও গাড়ির ওপর নেওয়া হচ্ছে আইনী ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে মদ্যপ চালক এবং বাইকে তিনজন আরোহী ও হেলমেট বিহীন চালক ও আরোহীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা। পুজার গত চার দিনে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল ওভার স্পিডিং এর ৭৯৭টি কেস হয়েছে। বিনা হেলমেট পরে গাড়ি চালানোর জন্য ৪০০, বিনা সিটবেল্ট এর জন্য ৩৬টি, তিনজন বাইক আরোহী নিয়ে গাড়ি চালানোর জন্য ২২৮, অন্যান্য মিলে সর্বমোট ১৪৭৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কল্যানী এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি এবং বাইক সাবধানে ট্রাফিক আইন মেনে চালানোর জন্যে সকলের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে বারাকপুর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে। ডিসি ট্রাফিক অম্লান কুসুম ঘোষ জানিয়েছেন, আমরা দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। মোটরবাইক ৫০ কিলোমিটার, অন্যান্য গাড়ি ৬৫ এবং ৮০ কিলোমিটার বেগে চালানোর জন্য নির্দেশ জারি হয়েছে। যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবু দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষের সচেতনতা দরকার। এই রাস্তায় বহু সংখ্যক সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নিয়ে খুব শীঘ্রই রাস্তাটি সিসি ক্যামেরা মুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে।