পুজো মানেই ঘরের ভোলবদল। কম খরচে কীভাবে সাজিয়ে তুলবেন আপনার প্রিয় ঘর? পরামর্শে ইন্টিরিয়র ডিজাইনার।
পুজো মানেই ঘরের ভোলবদল। কম খরচে কীভাবে সাজিয়ে তুলবেন আপনার প্রিয় ঘর? পরামর্শে ইন্টিরিয়র ডিজাইনার।
হাতে মাত্র একটা সপ্তাহ। তারপরেই দুর্গাপুজো। বাঙালির এই সেরা পার্বণ উপলক্ষ্যে বাড়ি সাজানোর কথা ভেবেছেন? অল্প সময় ও খরচে ঘরের ভোল বদলের কিছু টিপস দিলেন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার বিদিশা বসু। তাঁর কথায়, ‘হাতে সময় যখন একদমই কম তখন গৃহসজ্জার আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে কিছু ছোটখাট জিনিসের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। অল্প অদলবদলের মাধ্যমে কীভাবে ঘরের সাজ বদল করা যায় সে বিষয়ে একটু ভাবনা চিন্তা করতে হবে। তার জন্য অন্দরসজ্জার বিভিন্ন পত্রপত্রিকা উল্টেপাল্টে দেখতে পারেন। তাতে অনেক অভিনব ভাবনা মাথায় আসবে।’
সহজ কিছু উপায়
ঘরে একটা ফেস্টিভ লুক আনতে হবে। তার জন্য প্রথম যেটা দরকার তা হল উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার। এদিকে হাতে সময় নেই যে ঘর রং করিয়ে ফেলবেন। ফলে পর্দা বদলে ফেলুন। সোফা কভার, কুশন কভার ইত্যাদি বদল করুন। টেবিল ক্লথ থাকলে সেটা বদলান। খাবার টেবিলের চেয়ারে একটু রঙিন কভার লাগান। এই ছোটখাট বদলগুলো করলে দেখবেন ঘরের চেহারাটাই বদলে যাবে। এবং এই বদলগুলো সব ঘরেই করতে হবে। বিছানার চাদর, বালিশের কভার সবই বদলে দিন। এছাড়া ফুল আর ইনডোর প্লান্টসও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঘরে ফেস্টিভ লুক আনার জন্য। পুজোর সময় রঙিন ফুলের ব্যবহার করুন। সুদৃশ্য ফুলদানিতে ফুল সাজান। ঘর যদি বড় হয় তাহলে কোনও একটা কোণে ইনডোর প্লান্ট রাখতে পারেন অনায়াসে। একটু অন্য ধরনের পাতাবাহার গাছ বড় বসার ঘরে খুব ভালো লাগে। ইনডোর প্লান্টের ক্ষেত্রে টবও যেন সুন্দর দেখতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। পুজোর সময় একটু ফ্লোরাল পেন্টেড চীনেমাটির টব, মধুবনী পেন্ট করা টব এসব খুবই ভালো লাগে। ঘরের আসবাব, সোফার কভার ইত্যাদির সঙ্গে মিলিয়ে টব বাছুন।
বসার ঘরের কথা
বসার ঘরের একটা থিম দেওয়াল করতে পারেন। যেখানে পুজোর জন্য মা দুর্গার মূর্তি লাগালেন, নাহলে হয়তো কোনও পুজো সংক্রান্ত ছবি লাগালেন ইত্যাদি। এই ছবি বা মূর্তি যা-ই হোক না কেন, তা আলো দিয়ে সাজিয়ে দিন। ব্যাক লাইট লাগাতে পারেন, নীচ থেকে লো লাইট লাগাতে পারেন। মোটমাট ছবিটা যেন হাইলাইটেড হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বসার ঘরের মাঝখানে একটা ভালো কার্পেট পেতে দিন। ঘরের চরিত্রই বদলে যাবে। মাথায় রাখবেন উৎসবের মরশুমে লাল ও হলুদ এই দুই রঙের উপর প্রাধান্য দিয়ে কার্পেটের নকশা বেছে নিন। তাতে ঘরে আলো খেলবে এবং দেখতেও ভালো লাগবে। এছাড়া একটু কুশন ছড়িয়ে রাখুন। লাল, হলুদ, সবুজ, নীল এরকম সলিড রঙের কভার লাগানো কুশন রাখুন। যদি ঘরে ফুটন, টুল, চেয়ার, মাচিয়া বা সিঙ্গল কাউচ থাকে তাহলে তার বদলে পুজোর ক’দিন ফরাস বা ফ্লোর কুশন পাতার ব্যবস্থা করতে পারেন। এছাড়াও সেন্টার টেবিলের মাঝখানে একটু ছড়ানো কাচের ফুলদানি রাখুন। তাতে ফুল সাজিয়ে দিন পুজোর সময়। তার চার ধার দিয়ে মালার আলপনা আঁকুন। ঘরে একটু ধুপ দিন। দেখবেন দৃশ্য ও গন্ধ উৎসবের আমেজ বয়ে আনবে।
শোওয়ার ঘর
এই ঘরের সাজের দুটো প্রধান অঙ্গ, বেড কভার আর পর্দা। পুজোর সাজে এই দুটোর আমূল বদল অবশ্যই দরকার। সারা বছর যেমন বেডকভার শোওয়ার ঘরের খাটে পাতেন পুজোর সময় একেবারে তা বদলে দিন। নকশা, ফ্যাব্রিক, ধরন সবই অন্যরকম হোক পুজোর ক’টা দিন। উজ্জ্বল রং এক্ষেত্রেও ভীষণ জরুরি। নকশা বা স্টাইলে বদল আনতে গেলে ইক্কত, কটকি ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। সাদার সঙ্গে কম্বিনেশনে হলুদ, নীল লাল ইত্যাদি রং বেছে নিন। এছাড়াও পুজোর মধ্যে যদি বাড়িতে লোক সমাগম হয় তাহলে সেদিনের জন্য একরঙা স্যাটিনের বেডকভার পাততে পারেন। মেরুন, গাঢ় সবুজ ইত্যাদি রং এক্ষেত্রে উপযুক্ত। সঙ্গে ম্যাচিং বা কনট্রাস্ট পিলো কভার লাগান বালিশে। অন্য রকম লাগবে শোওয়ার ঘর। এছাড়াও এই সময় ঘরে কিছু মোড়া ছড়িয়ে রাখতে পারেন। তার উপর ক্রুশের কাজের ঢাকা লাগিয়ে রাখুন। রঙিন ক্রুশের কাজের ঢাকাওয়ালা মোড়া ঘর উজ্জ্বল করবে। শোওয়ার ঘরে খাটের সামনে লম্বা রাগ পেতে রাখুন। ঘরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কনট্রাস্ট করে পাতুন এই রাগ।
রং ও ফুলের ব্যবহার
বাড়িময় পুজো পুজো আমেজ আনতে আসবাবগুলোর সঙ্গে একটু বৈচিত্র্য যোগ করুন। ধরুন পেতলের জিনিস নামিয়ে সেটাকে মেজে নিয়ে তাতে ফুল রাখলেন, অন্যরকম ভাবে ঘরটা সাজান। ফুলের ক্ষেত্রে লাল আর সাদার কম্বিনেশন ব্যবহার করুন। সেই দিয়েই প্রতিটি ঘর সাজিয়ে তুলুন। দরজার বাইরে ফুলের আলপনা দিয়ে রাখতে পারেন পুজোর ক’টা দিন। আলোর ব্যবহারও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট স্ট্রিংলাইটস লাগান আয়নায়, দরজা ঘিরে। বাড়িতে যদি ছবি থাকে তাহলে পুজোর সময় সেই ছবির থিম বদলে দিন। একটু পুজোকেন্দ্রিক ছবি লাগান। পাতাবাহার, ফুলের আলপনা, কর্পূরের গন্ধ, প্রদীপের আলো এই সবই ঘরের সাজে বদল আনতে পারে। একটু ভাবনাচিন্তা কাজে লাগিয়ে ভিন্ন ধাঁচে ঘর সাজান, দেখবেন পুজোতে আনন্দে মন ভরে উঠবে।
কমলিনী চক্রবর্তী