Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আরামবাগে জঞ্জাল পৃথক করতে গুজরাত থেকে এল বিশেষ যন্ত্র

পাহাড় সমান জঞ্জাল পৃথক করতে গুজরাত থেকে এল বিশেষ যন্ত্র। যন্ত্রটির নাম ট্রমেল। আরামবাগ পুরসভার প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন জঞ্জাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে হুগলির বৈদ্যবাটিতে।

আরামবাগে জঞ্জাল পৃথক করতে গুজরাত থেকে এল বিশেষ যন্ত্র
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পাহাড় সমান জঞ্জাল পৃথক করতে গুজরাত থেকে এল বিশেষ যন্ত্র। যন্ত্রটির নাম ট্রমেল। আরামবাগ পুরসভার প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন জঞ্জাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে হুগলির বৈদ্যবাটিতে। শীঘ্রই শুরু হবে জঞ্জাল পৃথকীকরণের কাজ। এই কাজ করতে ছ’মাস সময় লাগতে পারে বলে মত পুরসভার। আরামবাগের পল্লিশ্রীতে দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে ওই জঞ্জাল সরানো হবে। তবে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কবে তৈরি হবে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড? আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী বলেন, আপাতত একটি যন্ত্রের মাধ্যমে জমে থাকা জঞ্জাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জঞ্জাল পৃথক করে বৈদ্যবাটিতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থান প্রকল্পের কাজের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হলে সেখানেও এই যন্ত্র ব্যবহৃত হবে। নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির চেষ্টা চলছে। আরামবাগে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। তারসঙ্গে জৈব সার বিক্রি করে উপার্জনও হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য নগরোন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগেই আরামবাগ থেকে জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জঞ্জালের স্তূপে থাকা প্লাস্টিক, অজৈব অন্যান্য অংশ ও মাটি আলাদা করবে। পৃথক হওয়া জঞ্জাল ওজন করে পাঠানো হবে হুগলির বৈদ্যবাটিতে। সেখানে গিয়ে জঞ্জাল থেকে সার তৈরি হবে। 

Advertisement

পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার সুমন মাল বলেন, কয়েক দশক ধরে জমে থাকা জঞ্জাল পৃথকীকরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে যে জঞ্জাল জমে রয়েছে তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এরফলে দুর্গন্ধ, দূষণ থেকে মুক্ত হবে এলাকা। আপাতত যন্ত্রটির মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। পরে দিন রাত কাজ চলবে। উল্লেখ্য, আরামবাগ পুরসভা এলাকায় স্থায়ী কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে রামকৃষ্ণ সেতুর নীচে ফেলা হচ্ছে শহরের নিত্যদিনের জঞ্জাল। বর্তমানে তা পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামকৃষ্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করার সময় দুর্গন্ধে নাজেহাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেকেই নাকে রুমাল চাপা দিয়ে সেতু পারাপার করেন। স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ার দাবিও দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। জমি জটে প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে বলে দাবি পুরসভার। পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়তে রাজ্যের তরফে প্রায় এক দশক আগে থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি চিহ্নিত না হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। সেতুর নীচে জমে থাকা জঞ্জাল সরিয়ে যাতে এলাকাটি ছ’মাসের মধ্যে পরিষ্কার করবার পরিকল্পনা রয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ