স্পেন-০ : কেপ ভার্দে-০
স্পেন-০ : কেপ ভার্দে-০
আটলান্টা: শেষ বাঁশি বাজতেই দু’হাতে মুখ ঢাকলেন ভোজিনা। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক হয়তো কাঁদছেন। কাবরাল, লোপেস, পিনা-ঘামে ভেজা সাদা জার্সিগুলোয় লেপ্টে চোয়ালচাপা লড়াই। বিশ্বকাপের আগে অনেকে কেপ ভার্দের নাম শুনেছেন কি না সন্দেহ। কে জানত হট ফেভারিট স্পেনকে রুখে দেবে তারাই! গোলশূন্য ম্যাচে কেপ ভার্দের রক্ষণে আটকে গেল লামিনে ইয়ামাল, রড্রিদের তিকিতাকা। ২০১৫ সালে ফিফা ফ্রেন্ডলিতে পর্তুগালকে ২-০ গোলে বশ মানিয়েছিল এই কেপ ভার্দে। ফুটবল মাঠে স্বপ্ন দেখার হয়তো সেটাই শুরু। ১১ বছর পর বিশ্বমঞ্চে স্পেনের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে টক্কর দিল ৫ লক্ষ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে।
ম্যাচের পর জায়ান্ট স্ক্রিনে ধরা পড়ল ম্যাচের ফল ০-০। তখনো হয়তো বিশ্বাস হচ্ছে না স্প্যানিশ সমর্থকদের। কিন্তু এটাই বাস্তব। চোট সারানোর পর রিহ্যাব চলছে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসের। হয়তো তাই অপেক্ষাকৃত দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ইয়ামালদের প্রথম একাদশে রাখা প্রয়োজন মনে করেননি কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তে। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজান স্প্যানিশ কোচ। অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষকে পাসিং ফুটবলের ধুতরো ফুল দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পেড্রি, রড্রি, রুইজ, গাবিরা ক্রমাগত শাফল করেও গোলমুখ খুলতে পারনেনি। প্রথম ২০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেড্রির গড়ানো শট ছাড়া সেভাবে দাঁত ফোটাতে ব্যর্থ স্প্যানিশ আর্মাডা। নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ডে দ্বিস্তরীয় বলয় সাজিয়েছিলেন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। পেড্রিরা বল ধরলেই ধেয়ে এল কড়া ট্যাকল। ৩৯ মিনিটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে রড্রির ছোট্ট চিপ খুঁজে নিয়েছিল ওভারল্যাপে আসা কুকুরেয়াকে। তিনি আলতো হেডে বল নামিয়ে দিলে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে প্রতিহত হয়। ফিরতি বলে ওয়ারজাবালের হেড অনবদ্য ফিস্ট করে বাঁচান ভোজিনহা। ৪০ বছরের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সারা ম্যাচেই অনবদ্য। দ্বিতীয়ার্ধে একে একে ইয়ামাল, উইলিয়ামস, ওলমোদের নামালেন ফুয়েন্তে। কিন্তু কেপ ভার্দের রক্ষণ মাছি গলাতেও নারাজ। সেই দেওয়ালে হোঁচট খেতে হল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।