Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

জ্যাজ-শহরে মেসিজ্বর, কাল ভোরে অভিযান আর্জেন্তিনার

কানসাস সিটিতে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্তিনা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সতর্কতা। বিস্তারিত পড়ুন।

জ্যাজ-শহরে মেসিজ্বর, কাল ভোরে অভিযান আর্জেন্তিনার
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

চারদিকে শুধুই হাইরাইজ। রাজপথের হোর্ডিংগুলি দেখলে মনে পড়বে ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ লাইনটি। আমেরিকায় ‘সূর্যমুখীর দেশ’ বলতে যদি কিছু বোঝায়, তাহলে তা এই কানসাস সিটি। শহরের বুক চিরে আপন মনে বয়ে চলেছে কানসাস নদী। দু’ধারে বছরের অধিকাংশ সময়ে স্থানীয় মানুষ মজে থাকেন জ্যাজ মিউজিকে। বার-বি-কিউ আর বেসবলও শহরের ইউএসপি। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ কানসাসকে দেখলে মনে হবে এক টুকরো বুয়েনস আইরেস কিংবা রোজারিও। অরিজিন হোটেল থেকে কানসাস সিটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স— নীল-সাদা ঢেউ। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময় ৬-৩০ মিনিট) যেন ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ধরে রাখার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করবে মেসির আর্জেন্তিনা। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। আর তার আগে নিজেদের গলায় শান দিয়ে রাখছেন মারিও-জর্জরা। ফিফার স্টলের সামনেও নীল-সাদা জার্সি, স্কার্ফ কেনার হুড়োহুড়ি। এরইমধ্যে এক সমর্থক যেন কিছুটা চিন্তিত। ফ্যান জোনের সামনে দাঁড়িয়ে বলেই ফেললেন, ‘আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় স্কালোনির।’ 

Advertisement

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আর্জেন্তিনার। মনে পড়ছে ১৯৯০ এবং ২০২২-এর বিশ্বকাপ। ইতালির মাটিতে ওমাম বিইকের গোলে হার মানে বিলার্দোর দল। তবে আর্জেন্তিনার দৌড় থেমেছিল ফাইনালে। আর গতবার তো সৌদির কাছে হেরে অভিযান শুরু হয়েছিল মেসিদের। অনেকে রে রে করে উঠেছিলেন। বাকিটা ইতিহাস। তবে এবার প্রথম ম্যাচের আগে যথেষ্ট সতর্ক আর্জেন্তাইন কোচ লায়োনেল স্কালোনি। জিদানের পূর্বপুরুষদের দেশকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। 
মার্কিন মুলুকের পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মে মাসের শেষদিনে কানসাস সিটিতে এসেছিল আর্জেন্তিনা। তবে প্রাণভ্রমরা মেসি এই দেশকে ভালোই চেনেন। ২০২৩ থেকে মায়ামিই তাঁর ঠিকানা। বাঁ পায়ের সৌজন্যেই ইন্তার মায়ামির নাম এখন ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। এখন তো তাঁর ম্যুরাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে। মেসিও জানেন, এই দলে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী। তাই যাবতীয় আবেগকে দূরে সরিয়ে তিনি ব্যস্ত অনুশীলনে। মনঃসংযোগে। ফুটবল জীবনের বেশিরভাগ সময় তাঁকে প্রবল চাপ নিয়ে খেলতে হয়েছে। এবার অবশ্য বিপরীত চিত্র। বিশ্বসেরার তকমা নিয়েই ২৬’এর বিশ্বকাপ মাতাতে তৈরি লিও। 
জীবনের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। শেষও বটে। তাই চাপ নয়, ফুটবল উপভোগ করাই লক্ষ্য এলএমটেনের। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে শেষবার এঁকে যেতে চান শিল্পের পটচিত্র। সাফল্যের অপরিসীম খিদেই তাঁর বিশেষত্ব। বিশ্বকাপের আগে পেশির চোটে কাবু হতেই নিজেকে বিশ্রামের হাতে সঁপে দেন মারাদোনার উত্তরসূরি। অনুশীলনে ফিরলেও বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে রাজি নন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, কোচ স্কালোনির নির্দেশ মেনেই নিজেকে তৈরি করছেন মেসি। সোমবার কানসাস সিটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে আলজেরিয়া বধের ছক কষলেন আর্জেন্তাইন কোচ। সঙ্গী এক এবং অদ্বিতীয় মেসি। লাওতারো মার্তিনেজ, রডরিগো ডে পল, মন্টিয়েলরাও জানেন, শিল্পীর সঙ্গে এটাই তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ। তাই জান কবুলে রাজি তাঁরা। 
গত কয়েকদিন দলের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন লিও। অভিভাবকের মতো বুঝিয়ে দিয়েছেন, কার থেকে ঠিক কতটা প্রয়োজন। ড্রেসিং-রুম হোক কিংবা মাঠ— মেসিই ‘দ্য বস’। শেষ বিশ্বকাপে অভিযান শুরুর আগে তাই আর্জেন্তিনার থিম সং, ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও...’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ