নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এখনও সেই অন্ধ বিশ্বাসেই ভরসা! সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে সোজা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু, এখনও অনেকে ছুটছে সেই ওঝার কাছেই। ঝাড়ফুঁক তুকতাকে বিষ নামে না, বরং সময়ের নষ্টের কারণে রোগীর অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়। শেষমেশ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তখন আর উপায় থাকে না। এনিয়ে লাগাতার প্রচার হলেও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। তাই এবার সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে গেলে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দিতে হল। তাতেই হয়েছে কাজ।
Advertisement
মঙ্গলবার সাপের ছোবল খাওয়া আরামবাগের ডিহিবায়রা গ্রামের প্রৌঢ়াকে প্রথম ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ওষুধ খেয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। আরামবাগের মায়াপুর-২ পঞ্চায়েতের প্রধান ও সদস্যদের কানে খবরটি যায়। তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু, প্রৌঢ়া যেতে চাননি। তখন কড়া হয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ভর্তি না হলে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে বলে জানানো হয়। তাতেই কাজ হয়। প্রৌঢ়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পঞ্চায়েত প্রধান অলোক সাঁতরা বলেন, ওই প্রৌঢ়াকে সাপে কামড়ালে পরিবার ওঝার কাছে নিয়ে যায়। তারপর তিনি বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু প্রথমে রাজি হননি। তারপর সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়। শেষমেশ রাজি হন। তখন গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি সুস্থ রয়েছেন।
ওই রোগিণী বলেন, বাড়িতেই রান্না করার জায়গায় একটি সাপ হাতে কামড়ে দিয়েছিল। তারপর আমরা ওঝার কাছে যাই। বিকেলে প্রধান সহ অন্যান্যরা গিয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রৌঢ়ার নাতি বলেন, সাপে কামড়ানোর পর ঠাকুমাকে ওঝার কাছে যাওয়া হয়। সেখানে ওষুধ দিয়েছিল। তারপর বাড়িতে ছিল ঠাকুমা। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে ভালোই হল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ বাড়িতেই ছিলেন ওই প্রৌঢ়া। রান্নার জন্য একটি বাটি আনতে গেলে সাপটি তাঁর হাতে ছোবল মারে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওঝার কাছে নিয়ে যান। বিকেলে আশাকর্মী মারফত ঘটনার খবর পান ওই সংসদের সদস্য লক্ষ্মীকান্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রৌঢ়ার বাড়িতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। তারপর প্রধান, উপপ্রধান মহাদেব চৌধুরী সহ এক স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর বাড়িতে যান। লক্ষ্মীকান্তবাবু বলেন, এই ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। এক প্রকার জোর করেই আমরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাই।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন। ওঝার কাছে যাওয়া ঠিক নয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমায় সাপের কামড়ে প্রত্যেক বছর বহু বাসিন্দার মৃত্যু হয়। তাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যত্র সাপে কামড়ানো রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যাপারে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। তারপরেও অনেকে সাপে কাটা রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে রোগীর প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে।
ওই রোগিণী বলেন, বাড়িতেই রান্না করার জায়গায় একটি সাপ হাতে কামড়ে দিয়েছিল। তারপর আমরা ওঝার কাছে যাই। বিকেলে প্রধান সহ অন্যান্যরা গিয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রৌঢ়ার নাতি বলেন, সাপে কামড়ানোর পর ঠাকুমাকে ওঝার কাছে যাওয়া হয়। সেখানে ওষুধ দিয়েছিল। তারপর বাড়িতে ছিল ঠাকুমা। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে ভালোই হল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ বাড়িতেই ছিলেন ওই প্রৌঢ়া। রান্নার জন্য একটি বাটি আনতে গেলে সাপটি তাঁর হাতে ছোবল মারে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওঝার কাছে নিয়ে যান। বিকেলে আশাকর্মী মারফত ঘটনার খবর পান ওই সংসদের সদস্য লক্ষ্মীকান্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রৌঢ়ার বাড়িতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। তারপর প্রধান, উপপ্রধান মহাদেব চৌধুরী সহ এক স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর বাড়িতে যান। লক্ষ্মীকান্তবাবু বলেন, এই ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। এক প্রকার জোর করেই আমরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাই।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন। ওঝার কাছে যাওয়া ঠিক নয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমায় সাপের কামড়ে প্রত্যেক বছর বহু বাসিন্দার মৃত্যু হয়। তাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যত্র সাপে কামড়ানো রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যাপারে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। তারপরেও অনেকে সাপে কাটা রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে রোগীর প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে।



