সংবাদদাতা, হিলি: কথায় আছে, মাছে ভাতে বাঙালি। সেই মাছ কি কেবল রুই, কাতলা বা ইলিশেই সীমাবদ্ধ? বাঙালি রসনায় প্রিয় মাছের তালিকায় সরপুঁটি, ট্যাংরা, কই, পাবদা, শিং, মাগুরের মত দেশীয় প্রজাতির মাছ সমান প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে এই ধরনের মাছ তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। দাম সাধারণের নাগালের প্রায় বাইরে। এই প্রেক্ষাপটে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর। মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে উৎপাদিত ক্যাটফিশের সিড বা চারার প্রায় ৭০ শতাংশ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত হচ্ছে।
একটা সময়ে বর্ষা এলে খাল, বিল, ডোবায় ট্যাংরা, কই, পাবদা, শিঙি, মাগুর, সরপুঁটি সহ নানা ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ খুব সহজে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন জলাশয়ের সংখ্যা কমেছে। নদী, খাল, বিলের স্বাভাবিক সংযোগ নষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে মাত্রাতিরিক্ত জলদূষণ, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে দেশীয় মাছ উৎপাদন প্রভাবিত হয়েছে। পাশাপশি জলাশয়গুলিতে দেশীয় মাছের বদলে বাণিজ্যিক প্রজাতির মাছ চাষের আগ্রহ দিনকে দিন বেড়েছে। বাজারের চাহিদার কারণেই এমনটা হয়েছে। ফলে ক্রমে দুর্লভ হয়ে উঠেছে বাঙালির চেনা দেশি মাছ। বালুরঘাটের মাছ বাজারও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্রেতাদের কাছে দেশীয় টেংরা, কই, পাবদা, শিঙি, পিয়ালি, রাইখোর, মাগুর মাছের চাহিদা থাকলেও জোগান কম থাকায় প্রজাতিভেদে সেগুলি কেজি প্রতি প্রায় ৬০০-১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। মাছ ব্যবসায়ীদের কথায় বাজারে দেশি মাছ এলে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।
বালুরঘাটের মাছ ব্যবসায়ী ভীম হালদার বলেন, বাজারে এখনও ট্যাংরা, কই, পাবদা, শিঙি, পিয়ালি, রাইখোর, মাগুরের মতো দেশীয় মাছের প্রচুর চাহিদা। জোগান কম থাকায় যেটুকু মাছ আসে সেগুলির দাম বেশি হলেও দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।
এই অবস্থায় মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর। মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে উৎপাদিত ক্যাটফিশের সিড বা চারার প্রায় ৭০ শতাংশ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত হচ্ছে।
জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সেই চারা ভিন রাজ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি প্রজাতির মাছের চারা উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতা জেলার বিভিন্ন হ্যাচারিতে শিঙি, মাগুর, পাবদা সহ দেশি মাছ উৎপাদিত হচ্ছে।
জেলার এক মৎস্য আধিকারিক বলেন, মাছ চাষে জেলার চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। রাজ্যে উৎপাদিত ক্যাটফিশের সিডস বা চারার প্রায় ৭০ শতাংশ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় দেশি প্রজাতির মাছের চারা উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।