নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাধারণ জ্বর হোক বা সাপে কাটার মতো মারাত্মক ঘটনা—হাসপাতালে যাওয়ার আগেই হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে ছুটছেন বহু গ্রামবাসী। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই প্রবণতা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে এবার হাতুড়ে চিকিৎসকদের একাংশ প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছেন। কারণ, গত কয়েক মাসে এই হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা করিয়ে অবস্থার অবনতি হয় দু’জনের। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁদের। এছাড়াও এক হাতুড়ে ডাক্তার নিজেই নিজের চিকিৎসা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁর প্রাণ গিয়েছে। জানা গিয়েছে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ ছিল। ওই ডাক্তারদের কাছে গিয়েছিলেন তাঁরা। রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর বদলে দিনের পর দিন তাঁরাই চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরে যখন শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে, তখন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে রোগীকে। কিন্তু তখন আর বাঁচানো যায়নি। জেলার বেশ কিছু জায়গায় হাতুড়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা জ্বরের রোগীদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার বদলে নিজেরাই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এই হাতুড়ে ডাক্তারদের বারবার স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে বলা হয়, জ্বর বা মশাবাহিত কোনও রোগ ধরা পড়লে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিতে হবে। কিন্তু তাঁরা এসব গ্রাহ্য করছেন না বলে অভিযোগ। ফলে হাতুড়েদের নিয়ে চিন্তা বেড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য আধিকারিক মুক্তিসাধন মাইতি বলেন, ‘আমরা এই ধরনের ডাক্তারদের বারবার সতর্ক করছি। তবুও অনেক গুরুতর রোগীকে ধরে রাখছেন তাঁরা। আমরা আবারও আবেদন করব, যাতে ওঁরা সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা না করে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।’



