নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাগরের বলরাম নস্কর। ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলেন চাষের জমিতে যাওয়ার জন্য। ঘড়িতে তখন ৬টা। হঠাৎ দেখেন, কে যেন বেড়ার গেট খুলে বাড়ির উঠোনের দিকে আসছেন। শার্ট-প্যান্ট পরা অপরিচিত ওই ব্যক্তির কাঁধে ব্যাগ। সাতসকালে কী এমন হল, কে এই ব্যক্তি? বলরামবাবু গায়ে জামা চাপিয়ে এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, কে আপনি? আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না। উত্তরে ওই ভদ্রলোক বললেন, আমি আপনার বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) আজ থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হয়েছে। তার জন্য আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। এটি ইনিউমারেশন ফর্ম। এসআইআর এখন এতটাই চর্চিত যে, বিষয়টি বুঝতে সময় নেননি তিনি। বিএলও’র থেকে কাগজ নিলেন তিনি।
পাথরপ্রতিমাতেও একই দৃশ্য। কাকভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন বিএলও’রা। তাঁরা এমন কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছেন, যেখানকার বাসিন্দারা সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠেছেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ফর্ম দিয়ে ফিরেছেন তাঁরা। এভাবে মঙ্গলবার ভোর হতে না হতেই গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। প্রসঙ্গত, প্রথম দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এক লক্ষের কাছাকাছি বাসিন্দার হাতে ইনিউমারেশন ফর্ম তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সাগর, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপের মতো সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় সূর্যের আলো ফুটতে না ফুটতেই ভোটারদের দুয়ারে ফর্ম হাতে পৌঁছে গিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। একইভাবে ডায়মন্ডহারবার, সাতগাছিয়ার মতো বিধানসভা এলাকায় সকাল সকাল নেমে পড়েছিলেন বিএলওরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথ লেভেল অফিসারদের সকাল ১০টা থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় তার আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন সেখানকার সরকারি আধিকারিকরা। তাঁদের যুক্তি, সময়ে তো কাজ শেষ করতে হবে। তাই যতটা সম্ভব হাতে সময় নিয়ে সেটা করা যায়, ততই ভালো। তাছাড়া বেলা বেড়ে গেলে চাষিদের অনেককেই আর ঘরে পাওয়া যাবে না।
যদিও শহুরে এলাকাগুলিতে ফর্ম বিলির কাজ শুরু হতে কোথাও দুপুর গড়িয়েছে, কোথাও হয়ে গিয়েছে বিকেল। এক আধিকারিক বলেন, এমনিতেই গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষ ভোরবেলায় ওঠেন। আর যেহেতু বিএলও’রা সেখানকারই বাসিন্দা, তাই তাঁরাও ভোরে উঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আর শহরের দিকে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতা রয়েছে বাসিন্দাদের। তাই এখানে বুথ লেভেল অফিসাররা বেলায় কাজ শুরু করেছেন। তবে প্রথম দিন বেশ কিছু বিধানসভা এলাকায় সার্ভারের সমস্যার কারণে বিলম্বিত হয় ফর্ম বিলির প্রক্রিয়া। এছাড়াও বারুইপুর ব্লক থেকে প্রথমে প্রত্যেক বিএলওকে মাত্র ১০টি করে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়। তাই এখানে দেরিতে কাজ শুরু হয়। বারুইপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে একাই কাজ করেন সীমা সর্দার নামে এক বিএলও। তাঁর বাড়ি এই পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে প্রথমদিন অনেক কেন্দ্রেই বিরোধী শিবিরের বুথ লেভেল এজেন্টের দেখা মেলেনি।