Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছেলের লেখাপড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দৌলতেই দোকান থেকে মন্দির জনমুখী প্রকল্পের গুণগান

নৈহাটি সাহেব কলোনির মোড় থেকে কিছুটা এগলেই মামুদপুর। সেখানে চায়ের দোকানে চলছে জোর আড্ডা। বিক্রি হচ্ছে মাঠঠা চা

ছেলের লেখাপড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দৌলতেই দোকান থেকে মন্দির জনমুখী প্রকল্পের গুণগান
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নৈহাটি সাহেব কলোনির মোড় থেকে কিছুটা এগলেই মামুদপুর। সেখানে চায়ের দোকানে চলছে জোর আড্ডা। বিক্রি হচ্ছে মাঠঠা চা। তা খেতে মানুষের বেশ ভিড় রোজই। 

Advertisement

মাঠঠা চা খেতে খেতে দোকানে উঠল ভোটের ইস্যু। মালিক পরিষ্কার বললেন, ‘আমরা তো ভালো আছি। রাস্তা দেখুন ঝকঝকে হয়ে গিয়েছে। যেখানে গাড়ির গতি বেড়ে গিয়েছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে তো দেখার মত রাস্তা হয়েছে। মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। সরকার পরিবর্তনের দরকার কি?’ দোকানে বসে ছিলেন মৌমিতা মণ্ডল নামে মামুদপুরের এক বাসিন্দা। তিনি বললেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমাদের সংসারের কত উপকার করেছে, জানেন। আমার ছেলে অনলাইনে পড়াশোনা করে। তার জন্য মোবাইল রিচার্জ করতে হয়। তা করি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই। ১৭০০ টাকা ঢোকে আমার অ্যাকাউন্টে। গত পাঁচবছরে একবারও টাকা আসা বন্ধ হয়নি। দিদি খুব উপকার করেছেন আমাদের।’ 
মাঠঠা চায়ের দোকানের একটু দূরে একটি মন্দির। সেখানে পুজো দিতে গিয়েছিলেন রত্না দাস, গার্গী বসাক। তাঁরা বলেন, ‘আমরা ভালোই আছি। পনেরশো টাকা পাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। আমাদের নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারছি সে টাকা দিয়ে। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই দিদি আরো টাকা বাড়াবে। আমাদের অঞ্চলটি পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। ভালোই কাজ করছে মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। বিভিন্ন প্রকল্পের আমরা সুবিধা পাচ্ছি।’ বিজেপি নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রচার করছে। এই প্রসঙ্গ ওঠার পর রত্নাদেবী বলেন, ‘আমরা তো নারী। আমাদের তো কোনো অভিযোগ নেই। রাত বিরেতে আসা-যাওয়া করি, কোনো সমস্যায় তো এতদিন পড়িনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মত মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অনেক চিন্তা করেন।’ আরও কয়েকজন মহিলা যোগ দিলেন অলোচনায়। তাঁদের বক্তব্য, ‘বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তিনহাজার টাকা করে দেবে। আগে তো কোনোদিন কিছু দেয়নি। গ্যাসের দাম কত বেড়ে গেল বলুন। সংসার আর চলছে না। যা আছে ভালোই আছে।’ এর মধ্যে কয়েকজন বললেন, ‘আমাদের এখানে একটু জল নিকাশির সমস্যা আছে। বৃষ্টি হলে জল দাঁড়িয়ে যায়। দিদি এদিকটা একটু নজর দিলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প এবারের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়েক কদম এগিয়ে রাখছে বলে সবারই মত। নৈহাটির মামুদপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে তা আরও পরিষ্কার হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ