নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাইকেল নিয়ে বিবাদ। তার জেরে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে। ওই মারধরের কারণেই শেষমেশ মারা গিয়েছেন রঞ্জিত মণ্ডল (৩৫) নামের ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানা এলাকার সোনারপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলা অঞ্চলে। মৃতের পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে তার ভিত্তিতে পুলিশ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অভিযুক্ত নারায়ণ রায়কে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ওই এলাকারই এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাইকেল নিয়ে কোনও কাজে বেরিয়েছিলেন রঞ্জিত। কয়েক ঘণ্টা বাদে তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু তখন তাঁর কাছে কোনও সাইকেল ছিল না। ওই ব্যবসায়ী সাইকেল ফেরত চাইলে রঞ্জিত সেকথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি তো সাইকেল নিয়ে যাননি। এই নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাদানুবাদ হয় তাঁর। এই সময় সেখানে হাজির হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ রায়। তিনি দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গেও এ নিয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন রঞ্জিত। উত্তেজনা চরমে উঠলে ওই পঞ্চায়েত সদস্য কয়েকজন সঙ্গীকে ডেকে এনে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। কিল, চড়, ঘুসি কিছুই বাদ যায়নি। এরপরই অচৈতন্য হয়ে পড়েন রঞ্জিত। স্থানীয় লোকজনই আহতকে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় রঞ্জিতের।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও তাঁর সঙ্গীরা এখনও পলাতক। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি এবং ধৃত নারায়ণ রায় ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। খুনের ঘটনায় দলের নেতা গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। এই নিয়ে সোনারপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন সর্দার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করছে। প্রকৃত দোষী নিশ্চিতভাবেই শাস্তি পাবে। -নিজস্ব চিত্র