সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: সেই কবে ‘সোনার কেল্লা’ বানিয়েছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়। সালটা ১৯৭৪। অর্থাৎ, সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে পা রেখেছে তাঁর এই অনবদ্য সৃষ্টি। এর ঠিক ছ’বছর পর তিনি তৈরি করেন ‘হীরক রাজার দেশ’। সেই ছবির বয়সও প্রায় ৪৪ বছর। দু’টি সিনেমার বয়স যতই বাড়ুক, বাংলার নতুন প্রজন্মের কাছে সত্যজিৎ রায় অমলিন। হাতে গরম প্রমাণ আসানসোলের চিলড্রেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ‘হ্যারি পটার’, ‘ইটি’-র মতো হলিউড সিনেমাকে টেক্কা দিয়ে উৎসবে আগাম আসন ধরে রাখার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘হীরক রাজার দেশ’।
রাজ্য তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এই প্রথমবার চিলড্রেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে আসানসোলে। আজ, শুক্রবার উৎসবের সূচনা করবেন বলিউড স্টার শত্রুঘ্ন সিনহা। আসানসোল রবীন্দ্র ভবনে শুক্র, শনি, রবি তিনদিনে ন’টি সিনেমা দেখানো হবে। উদ্দীপনা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। উৎসবে কোনও প্রবেশ মূল্য নেই। শিশুরা দু’জন অভিভাবক নিয়ে সিনেমা দেখতে পারবেন। তবে, আসন সংখ্যা সীমিত। তাই অগ্রিম বুক করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অভিভাবকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে রবীন্দ্রভবন চত্বরে।
এতদিন চিলড্রেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হতো কলকাতায়। এবার সেই উৎসবকে রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। আসানসোল রবীন্দ্রভবনের জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হবে ছোটদের ন’টি সিনেমা। আজ, দুপুর ১২ টায় ‘সোনার কেল্লা’ দিয়ে উৎসবের সূচনা। তারপর হবে ‘ন্যানি ম্যাকফি অ্যান্ড দ্য বিগ ব্যাঙ’। সন্ধ্যা ছ’টা থেকে হবে স্টিফেন স্পিলবার্গের ‘ইটি’। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সিনেমা ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেট’। পরে হবে ‘ইমেল অ্যান্ড দ্য ডিটেকটিভস’। তৃতীয় সিনেমা ‘পাতালঘর’। শেষ দিনের প্রথম সিনেমা হবে ‘নার্নিয়া: দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়ারড্রব’। দ্বিতীয় সিনেমা ‘রিও-টু।’ উৎসব শেষ হচ্ছে ‘হীরক রাজার দেশ’ দিয়ে।
বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। শহরের বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুলে ছুটি। স্বভাবতই সিনেমো উৎসবের সন্ধিক্ষণটা বেশ ভালোই। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি উৎসাহিত তাদের বাবা-মাও। তাঁদের হাত ধরে বহু পড়ুয়া সিট বুক করতে আসছে রবীন্দ্রভবনে। তাদের মধ্যে অনেক ছেলেমেয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। ফলে, উদ্যোক্তাদের একটা বড় অংশ ভেবেছিলেন, হলিউড সিনেমা দেখার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রায় সবার প্রথম পছন্দের সিনেমা ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘হীরক রাজার দেশ’। অন্যান্য সিনেমা দেখতেও সিট বুক হচ্ছে। তবে, সব সিনেমাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে সত্যজিৎ রায়ের দু’টি কালজয়ী সৃষ্টি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের তিন মন্ত্রী মলয় ঘটক, প্রদীপ মজুমদার ও ইন্দ্রনীল সেনের। কার্ডে মন্ত্রী, জেলাশাসক ও জেলা সভাপতির নাম থাকলেও আসানসোলের মহানাগরিক বিধান উপাধ্যায়ের নাম না থাকায় বিরোধীরা সরব হয়েছেন। তাঁরা বিষয়টিকে শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাবি করেছেন। যদিও মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, ‘কার্ডে নাম থাকুক বা না থাকুক, সরকারি অনুষ্ঠান আমি উপস্থিত থাকব। বিরোধীরা নিজেদের ঘর গোছাক, আমরা সবাই এক রয়েছি।’