ভোপাল ও শিলং: অপহৃত হওয়ার ভুয়ো দাবি থেকে বারবার বয়ান বদলের চেষ্টা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা গেল না। পুলিসি জেরার মুখে অবশেষে ভেঙে পড়ল সোনম রঘুবংশী। দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া শিলংয়ের হানিমুন মার্ডারে এল স্বীকারোক্তি। স্বামী রাজাকে ঠান্ডা মাথায় খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা মেনে নিল সে। বুধবার পুলিস সূত্রেই একথা জানানো হয়েছে। ঘটনাচক্রে ঠিক এক মাস আগে গত ১১ মে ইন্দোরে রাজার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সোনমের। প্রেমিক রাজ কুশওয়া ও ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে স্বামীকে খুনের চক্রান্ত করেছিল ২৪ বছরের এই তরুণী। এরই মধ্যে এদিন সোনম ও আরও চার অভিযুক্তকে শিলংয়ের আদালতে পেশ করা হলে তাদের আটদিনের পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সোনমের স্বীকারোক্তির মধ্যেই হাড় হিম করা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিসের একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, তাদেরই পারিবারিক সংস্থার কর্মী ২১ বছরের রাজ কুশওয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কথা বিয়ের আগেই মাকে জানিয়েছিল সোনম। নিহত রাজা রঘুবংশীর দাদা বিপিন পুলিসের কাছে এই দাবি করেছেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ‘সোনম তার মাকে জানিয়েছিল, সে রাজাকে বিয়ে করতে চায় না। কিন্তু রাজ কুশওয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক মা মানতে রাজি ছিলেন না। এই অবস্থায় চাপের মুখে পড়ে সোনম তার মাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ঠিক আছে আমি রাজাকে বিয়ে করব। কিন্তু তার কী অবস্থা করে ছাড়ব... সেটা তোমরা দেখবে। তোমাদের সবাইকেই এর ফল ভুগতে হবে। এরপরও সোনম যে রাজাকে খুন করতে পারে, তা কারও ভাবনায় আসেনি।’ সোনমের দাদা গোবিন্দ কিন্তু এদিন ইন্দোরে বলেছেন, ‘রাজাকে আমার বোনই যে খুন করেছে, সেবিষয়ে আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। এখনও পর্যন্ত সামনে আসা সব প্রমাণ সেই কথাই বলছে। এই ঘটনায় সব অভিযুক্তের সঙ্গেই রাজ কুশওয়ার পরিচয় ছিল। সোনমের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। রাজার পরিবারের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’ তবে, রাজার দাদা বিপিনের অভিযোগ অস্বীকার করে গোবিন্দ বলেন, ‘বিয়ের আগে বোন সোনমের সঙ্গে রাজ কুশওয়ার সম্পর্কের কথা আমাদের জানা ছিল না।’
মেঘালয় পুলিস জানিয়েছে, হোম স্টের ঘর থেকে মঙ্গলসূত্র এবং আংটি উদ্ধার হয়েছিল। ডিআইজি ডিএনআর মারাক বলেন, ‘স্যুটকেসের ভিতর ওই দু’টি গয়না উদ্ধার করা হয়েছিল। সদ্য বিবাহিত এক মহিলা মঙ্গলসূত্র ও আংটি কেন ঘরে রেখে যাবেন! এরপরই সোনমের উপর আমাদের সন্দেহ দৃঢ় হয়। সেই মতো অপারেশন শুরু করি আমরা।’ এরপর প্রেমিক রাজ কুশওয়ার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয় সোনমকে। সেই জেরার মুখেই ভেঙে পড়ে ওই তরুণী। স্বামী রাজাকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা কবুল করে নেয়। প্রেমিক রাজকে সঙ্গে নিয়েই স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল সোনম। এরই পাশাপাশি ইন্দোর ক্রাইম ব্রাঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলায় বাকি চার অভিযুক্তও অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এএসপি পুনমচাঁদ যাদব বলেন, ‘রাজাকে প্রথম আঘাতটা করেছিল অন্যতম অভিযুক্ত বিশাল ওরফে বিকি ঠাকুর। রাজার দেহ খাদে ফেলে দেওয়ার কথাও অভিযুক্তরা মেনে নিয়েছে।’ প্রেমিক রাজ কুশওয়ার সঙ্গে সোনমের একটি পুরনো ছবি পুলিসের হাতে এসেছে। বিয়ের আগে থেকেই যে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, এই ছবি তার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে পুলিস।