Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিটের মাটি দিতে আপত্তি সোনাগাছির যৌনকর্মীদের

উত্তর কলকাতার সোনাগাছি নিষিদ্ধপল্লিতে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন যৌনকর্মীরা। বোধন থেকে নিরঞ্জন। সমস্ত পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন তাঁরাই।

ভিটের মাটি দিতে আপত্তি সোনাগাছির যৌনকর্মীদের
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু , কলকাতা: 

Advertisement

উত্তর কলকাতার সোনাগাছি নিষিদ্ধপল্লিতে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন যৌনকর্মীরা। বোধন থেকে নিরঞ্জন। সমস্ত পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন তাঁরাই। প্রায় পাঁচশো যৌনকর্মী ও তাঁদের পরিবার পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। প্রচলিত, তাঁদের ভিটের মাটি ছাড়া নাকি কোনও দুর্গাপুজোই সম্পন্ন হয় না। তবে যৌনকর্মীদের একাংশ বুধবার ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘এখন কাউকে ভিটের মাটি বা ধুলো দেওয়া হয় না। সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’ এক যৌনকর্মী বলেন, ‘বলতে পারেন, কেন আমাদের একঘরে করে দেওয়া হবে?’
সোনাগাছির মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটের যৌনকর্মীদের পুজোর এবার ১৩তম বর্ষ। সাবেকি ঢঙের প্রতিমা আসে কুমোরটুলি থেকে। নবমীতে ১৫০ কেজি চাল, ১৫০ কেজি ডাল দিয়ে খিচুড়ি (মহাভোগ) হয়। ১০০ কেজি দুধ দিয়ে হয় পায়েস। এছাড়া থাকে আলুর দম, চচ্চড়ি ও টম্যাটোর চাটনি। দুর্গাকে তা নিবেদন করে সোনাগাছির সব যৌনকর্মীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার যৌনপল্লিগুলিতে পাঠানো হয়। আহিরীটোলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। দশমীর সন্ধ্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় সিঁদুর খেলা।
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশাখা লস্কর বলেন, ‘দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা বুকে নিয়ে যৌনকর্মীরা এই কাজে নিয়োজিত। তাঁদেরও পুজোয় অংশগ্রহণের ইচ্ছা থাকে। তাকে মর্যাদা দিতেই প্রায় এক যুগ আগে শুরু হয়েছিল এই মহল্লায় দুর্গাপুজো। পুজো ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’
যৌনকর্মীরা জানান, প্রতিবছর পুজোর সময় এই মহল্লার প্রতিটি যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের দেওয়া হয় জামাকাপড়। পুজোর কদিন তাঁরা নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বহু মানুষ এখানে প্রতিমা দর্শন করতে আসেন। রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা সুজাতা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ভালো লাগে যখন ওঁদের সন্তানরা পুজোর সময় নতুন জামা পরে আনন্দ করে।’ যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা সুজয় কর্মকার বলেন, ‘ওঁরাও সমাজের একজন। বছরের বিভিন্ন সময় তাঁরা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেখে ভালো লাগে।’ যৌনকর্মীদের কথায়, ‘এই পুজোয় সরকারি সহযোগিতা মেলে। পাশাপাশি আমাদের সংগঠনের  পক্ষ থেকেও সহযোগিতা মিলে থাকে।’ দুই যৌনকর্মী বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে মানুষ হোক।’ একজনের ছেলের বয়স দশ বছর। শিশুটি ভালোভাবে মানুষ হোক দশভুজার কাছে এই প্রার্থনাই জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ