Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর সদরের ভাঙা ঘরে বাস করে বিড়ি শ্রমিকের ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৫২

মেদিনীপুর সদরের ভাঙা ঘরে বাস করে বিড়ি শ্রমিকের ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৫২
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, এনায়েতপুর: বিড়ি শ্রমিকের ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে ৯০.৪০ শতাংশ নম্বর পেয়ে চমকে দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শিক্ষামহলকে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের এনায়েতপুরের বাসিন্দা সৌমেন দলুই গুড়গুড়িপাল হাই স্কুলের ছাত্র। তিনি পেয়েছেন ৪৫২ নম্বর। তিনি কলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। 
সৌমেনের বাবা স্বপন দলই ও মা শঙ্করী দলই দুজনেই বিড়ি শ্রমিক। সংসারে নিদারুণ অর্থাভাব। ভাঙাচোরা মাটির বাড়িতে বসবাস তাঁদের। হাতির ভয় উপেক্ষা করে সৌমেনের মা-বাবা জ্বালানি সংগ্রহে জঙ্গলে যান। স্বল্পমূল্যে রেশন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপরেই নির্ভর করে তাঁদের সংসার চলে। অভাবী পরিবারের ছেলে সৌমেনের স্বপ্নও সাদামাটা। তিনি একটা সরকারি চাকরি জোটাতে চান। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, খুব অল্প বয়স থেকেই সৌমেন মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, নাচেও পারদর্শী তিনি। গুড়গুড়িপাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম ভৌমিক বলেন, ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিশ্রমের বিকল্প কিছু যে নেই, তা ও প্রমাণ করেছে।
সৌমেন বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব হতো না। কলেজে ভর্তির সময় থেকেই সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করব। আশা করছি আগামী দিনে আরও ভালো রেজাল্ট হবে। এদিন বাড়ির উঠোনে বসে স্বপনবাবু বলেন, আমরা পড়শোনা জানি না। তবে ছেলের সাফল্যে খুবই খুশি। ও খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরে জল ভিতরে জল পড়ে। পরীক্ষার আগে লাইটের টাকা দিতে পারিনি বলে, লাইট কাটতে এসেছিল। সৌমেন বাংলায় ৮৮, ইংরেজিতে ৮৩, এডুকেশনে ৮৩, দর্শনে ৯৫, সংস্কৃতে ৯২ ও ভূগোলে ৯৪ পেয়েছেন।
সৌমেনের মা শঙ্করী বলেন, লক্ষীর ভাণ্ডার আর রেশনটা পাচ্ছি বলে ছেলের পড়াশোনা চালাতে পেরেছি। ও পান্তা ভাত খেয়েই পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। পরীক্ষার আগে রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করত, আর আমরা পাশে বসে বিড়ি বাঁধতাম। একেবারে নিজের চেষ্টায় ভালো ফল করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক বিমলকুমার দলই বলেন, অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই ও ভালো ফল করেছে। ওঁর জন্য সকলেই গর্বিত। আরেকটু সহযোগিতা ও সুযোগ সুবিধে পেলে ও আরও ভালো রেজাল্ট করত। উচ্চশিক্ষায় খরচ বেশি। সরকারি সাহায্য পেলে সৌমেন আগামী দিনেও সাফল্য পাবে। সৌমেনের একমাত্র গৃহশিক্ষক শুভম দলই বলেন, সৌমনের ভালো রেজাল্ট করার জেদ ওকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

Advertisement

- বাবা-মায়ের সঙ্গে সৌমেন দলুই।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ