Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলের মুখে ব্ল্যাঙ্কেট চাপা দিয়ে খুন, সৎ মাকে নিয়ে পুননির্মাণ

শিশুপুত্রকে ব্ল্যাঙ্কেট চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন সৎ মায়ের! পুলিস হেফাজতে নিয়ে সৎ মা সোমা কোলে (দাস)-কে দিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করল খানাকুল থানার পুলিস।

ছেলের মুখে ব্ল্যাঙ্কেট চাপা দিয়ে খুন, সৎ মাকে নিয়ে পুননির্মাণ
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: শিশুপুত্রকে ব্ল্যাঙ্কেট চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন সৎ মায়ের! পুলিস হেফাজতে নিয়ে সৎ মা সোমা কোলে (দাস)-কে দিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করল খানাকুল থানার পুলিস। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত ব্ল্যাঙ্কেট পরীক্ষার জন্য ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে বলে খানাকুল থানার পুলিস জানিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে খানাকুলের জগন্নাথপুর এলাকায় ওই ঘটনাটি ঘটে। চার বছরের শিশুপুত্র কৃষ্ণ কোলেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপরই শিশুপুত্রের মামা, দাদু খানাকুল থানায় সৎ মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস বধূকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিসের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত খুনের ঘটনা স্বীকার করে নেয়। পরে তাকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তিনদিনের পুলিস হেফাজতে পায় পুলিস। হেফাজতে থাকাকালীনই অভিযুক্ত বধূকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। 

Advertisement

আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, ওই বধূ পুলিসি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে। ফলে পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। 
উল্লেখ্য, জগন্নাথপুরের বাসিন্দা স্বর্ণেন্দু কোলে ভালোবেসে স্থানীয় কায়বা গ্রামের প্রতিমাকে বিয়ে করেন। তাঁদের পুত্র সন্তান কৃষ্ণ হয়। প্রতিমাদেবী থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি মারা যান। তারপর মাস কয়েক আগে স্বর্ণেন্দুবাবু ঘাটালের বাসিন্দা সোমা দাসকে বিয়ে করেন। সোমার দুই সন্তান। জগন্নাথপুরের বাড়িতে এক সন্তানকে নিয়ে আসে সোমা। তারসঙ্গে স্বর্ণেন্দুবাবুর প্রথম পক্ষের পুত্র সন্তান কৃষ্ণ থাকত। এছাড়া স্বর্ণেন্দুবাবুর মা-ও বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু স্বর্ণেন্দুবাবু সুরাতে সোনার কারিগরের কাজের সঙ্গে যুক্ত। স্বর্ণেন্দুবাবুর দাবি, ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সোমাকে বিয়ে করেছিলাম। প্রতিদিন প্রায় সব সময় ভিডিও কলে কৃষ্ণ সহ ওদের দেখতাম। ঘটনার দিন মা বাড়িতে ছিল না। আচমকা বিকেলের দিকে সোমা জানায় কৃষ্ণ ঘুম থেকে উঠছে না। বিষয়টি আত্মীয়দের জানালে মৃত্যুর খবর পাই। পরে শুনেছি সোমা খুনের কথা স্বীকার করেছে। পুলিস তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে পুনর্নির্মাণও করেছে। তারসঙ্গে একটি ব্ল্যাঙ্কেটও নিয়ে গিয়েছে। কোনও দিন সোমার আচরণে সন্দেহ হয়নি। কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার ছেলে চলে গেল। আমি সোমার কঠোরতম শাস্তি চাই। 
পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়রাও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তাঁরাও ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। 
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বাড়িতে দুই শিশুর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। সেই সময় বধূ কৃষ্ণকে ব্ল্যাঙ্কেট চাপা দিয়ে খুন করে বলে স্বীকার করেছে। এই ঘটনার পিছনে তার অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ