সংবাদদাতা, কাটোয়া: শাশুড়ির ভুলেই নাকি সদ্যজাত শিশুপুত্রকে এসএনসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে? সেই রাগে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল চত্বরেই ঘুষি মেরে শাশুড়ির নাক ফাটানোর অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে শাশুড়ির নাক দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত বের হচ্ছে দেখে পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতেই ভর্তি করেন। আবার তাঁকে দেখতেও যায় ‘কীর্তিমান’ জামাই। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনায় হতবাক সকলেই।
কেতুগ্রামের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ফতেমা বিবির(৫০) ছোট মেয়ে আকরুসা খাতুনের ছ’দিন আগে পুত্রসন্তান হয়েছে। কিন্তু, সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগে চিকিৎসকের নজরদারিতে রয়েছে। এদিন সেই নিয়েই বচসা বাধে শাশুড়ি-জামাইয়ের মধ্যে। আর তার জেরে হাসপাতাল চত্বরেই আচমকা শাশুড়ির নাকে ঘুষি মারে জামাই। তাতে ফতেমা বিবির নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে ফতেমা বিবি বলেন, আমার জামাই মেরেছে। আমি বলেছিলাম আমার মেয়েকে ঠিক সময়ে ভর্তি করতে। তাহলে শিশুটার এরকম অসুস্থ হতো না। কিন্তু, জামাই সেই কথা মানতেই চায় না। ওর দাবি আমরাই নাকি মেয়েকে সঠিক সময়ে ভর্তি করিনি। এনিয়েই কথা কাটাকাটি শুরু হয়। জামাই আমার মেয়েকে বাপেরবাড়ি আসতে দেয় না।
এদিকে পাল্টা জামাই বলে, আমি স্ত্রীর শরীরের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখি। হাসপাতালে আমরা বলেছিলাম সঠিক দিনে ভর্তি করতে। কিন্তু, ওরা তা করেনি। তাই রেগে গিয়েছিলাম আমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতেমা বিবির দুই ছেলে তিন মেয়ে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি তাঁর ছোট ছেলের কাছেই থাকেন। ছোট ছেলে আমেদাবাদে বেকারিতে কাজ করে। তিন বছর আগে ছোট মেয়ের সঙ্গে খাঁজির এক যুবকের ভালোবাসা করে বিয়ে হয়। জামাই চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে সমস্যা লেগেই রয়েছে। এদিন জামাই এর মা বউমার পরিবারের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেন। এদিন হাসপাতাল চত্বরে শাশুড়ির নাক ফাটানো দেখে সকলেই টিপ্পনি কাটতে শুরু করে। যদিও কেতুগ্রাম থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।