Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রীকে ফিরে পেতে শ্যালিকার ছেলেকে অপহরণ, ধৃত জামাই

স্ত্রীকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর করত স্বামী। এ নিয়ে নিত্য অশান্তি লেগেই ছিল সংসারে

স্ত্রীকে ফিরে পেতে শ্যালিকার ছেলেকে অপহরণ, ধৃত জামাই
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: স্ত্রীকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর করত স্বামী। এ নিয়ে নিত্য অশান্তি লেগেই ছিল সংসারে। অত্যাচার থেকে বাঁচতে মাস দেড়েক আগে শেষমেশ স্বামীর সংসার ছেড়ে বোনের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু স্ত্রীকে তো ছাড়া যাবে না! তাঁকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন স্বামী বৃন্দাবন মণ্ডল। একারণে ফন্দি আঁটে সে। শ্যালিকার ১১ বছরের ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মুক্তিপণ হিসেবে শর্ত, ‘স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিলে ছেলেকেও ফিরে পাবে শ্যালিকা’। জামাইবাবুর এহেন ফোন পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে দ্বারস্থ হন কুলতি থানার। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, শ্যালিকার নাবালক ছেলেকে নিয়ে বৃন্দাবন ভুবনেশ্বরে রয়েছে। তাকে টোপ দিলে খড়্গপুর স্টেশনে চলে আসে সে। এরপর কুলির ছদ্মবেশে সেখানে হাজির হয়ে তদন্তকারীরা পাকড়াও করেন বৃন্দাবনকে। উদ্ধার করা হয় ওই নাবালককেও। তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, কুলতলির বাসিন্দা টুম্পা মণ্ডলের সঙ্গে বারুইপুরের পিয়ালির খোলাঘাটা এলাকার বাসিন্দা বৃন্দাবনের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে। অভিযোগ, বৃন্দাবন দিনের বেশিরভাগ সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। বাড়ি ফিরে সেই নেশার ঘোরেই অত্যাচার করত স্ত্রী টুম্পার উপর। মারধরের হাত থেকে বাঁচতে টুম্পা ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে কুলতলিতে বোন শম্পা মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। জানা গিয়েছে, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে বাড়ি ফেরানোর জন্য এখানেও হানা দিয়েছিল বৃন্দাবন। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হুমকি দিয়েছিল সে। কিন্তু তার হুমকিকে পাত্তা দেননি তাঁরা। শেষে নাছোড় বৃন্দাবন গত ১৬ জুলাই শ্যালিকা শম্পার ছেলেকে অপহরণের ছক কষে।
অভিযোগ, ওই দিন স্কুলের সামনে থেকে শম্পার ১১ বছরের ছেলেকে অপহরণ করে বৃন্দাবন। এরপর শ্যালিকাকে ফোন করে বৃন্দাবন বলে, তোমার ছেলে আমার হেফাজতে। যদি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, তাহলে তোমার ছেলের কিডনি কেটে নেওয়া হবে। নতুবা খুন করে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হবে। মুক্তিপণের এই শর্ত শুনে ভয় পেয়ে যান শম্পা। সঙ্গে সঙ্গে কুলতলি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করলে কুলতলি থানার আইসি ফারুক রহমানের নির্দেশে চারজনকে নিয়ে তদন্তকারী দল তৈরি করা হয়। পুলিস জানতে পারে, বৃন্দাবন ওই নাবালককে নিয়ে ভুবনেশ্বরে রয়েছে। শ্যালিকাকে দিয়ে অভিযুক্তকে ফোন করায় পুলিস। টোপ হিসেবে বলা হয়, স্ত্রী টুম্পাকে নিয়ে তাঁরা খড়্গপুর স্টেশনে যাচ্ছেন। সেখানে ছেলেকে ফেরত দিতে হবে। এই শর্তে রাজি হয়ে যায় অপহরণকারী জামাইবাবু। সেইমতো শনিবার রাতে পুলিসের চারজনের বিশেষ টিম বৃন্দাবনের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে খড়্গপুর স্টেশনে যায়। সেখানে স্টেশনে নেমে পুলিস কুলির ছদ্মবেশে ওত পেতে বসে থাকে। স্ত্রী ও শ্যালিকা বসে থাকেন প্ল্যাটফর্মে। খানিকবাদে অভিযুক্ত ওই নাবালককে নিয়ে ট্রেন থেকে নামতেই পুলিস কর্মীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাকে। পুলিস জানিয়েছে, ওই নাবালককে প্রথমে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর তাকে ওড়িশায় নিয়ে আসে বৃন্দাবন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ