সংবাদদাতা, বনগাঁ ও নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইটের দেওয়াল ও টিনের শেড দেওয়া ছোট্ট একটি ঘর। দেওয়ালে প্লাস্টার পড়েনি। মাটির মেঝেতে ত্রিপল পেতে সাদা বসনে বাবা রামপ্রসাদ দাস। এই ঘরেই থাকত কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনে ধৃত গাইঘাটা মহিষাকাঠির বাসিন্দা প্রহ্লাদ দাস। ঘরের এক কোণে একটি টেবিলে কয়েকটি বই। চাকরির পরীক্ষার বইয়ের পাশাপাশি রাখা রয়েছে ধর্মীয় ও জ্ঞানের বই। বারান্দার বসে অঝোরে কেঁদে চলেছেন মা রেখাদেবী। বলছিলেন, ছেলের স্বপ্ন ছিল পুলিশ হবে। পুলিশের চাকরির বই পড়ত। এনসিসিতে করেছিল। বলত, চাকরি পেয়ে তোমার চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করবো। পুলিশ হওয়া হল না ছেলের। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারাতে হল। পুলিশি ঘেরাটোপে সোমবার গভীর রাতে শেষ বারের জন্য এই ঘরে এসেছিল প্রহ্লাদ। মঙ্গলবার ভোরে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় তাঁর। এখনও রেখা দেবী বিশ্বাস করতে পারছেন না ছেলে বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে গুলি করতে পারে। তাঁর দাবি, ছেলে অন্যায় করেছে। শাস্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু এনকাউন্টার চাইনি। রাতে ওকে যখন বাড়িতে নিয়ে এসেছিল অনেক পুলিশ ছিল। হাতকড়া পরানো ছিল। তাহলে কি করে গুলি করতে পারে? প্রশ্ন সদ্য সন্তান হারানো মায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মায়ের দাবি, আমার ছেলে দোষী, ওই মেয়েও দোষী। মেয়ে যদি ন্যায় পায়, আমার ছেলেও যেন ন্যায় পায়। এদিন বারবার এই কথাগুলিই আওড়াচ্ছিলেন মা রেখা দেবী। বিয়ে করার কথা বলত ছেলে। মাকে বলেছিল, আগে বাড়ি তৈরি করব। তারপর বিয়ে। মায়ের আক্ষেপ, ছেলের কোনো স্বপ্ন পূরণ হলো না।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে গাইঘাটা থানার শিমূলপুরের বৈদ্যবাড়ি মোড়ে প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টার পর্বে দু’তরফে মোট সাত রাউন্ড গুলি চললেও, ঘটনাস্থলে ছিল না ছিঁটেফোটা রক্তের দাগ। পড়ে ছিল শুধু ভাঙা কাচের টুকরো। এত রাউন্ড গুলি চলা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজনের। প্রহ্লাদের বাবা রামপ্রসাদ দাসের বক্তব্য, শেষবার যখন পুলিশ ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, তার হাত বাঁধা ছিল। ভোরে হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, হাত বাঁধা। ওই অবস্থায় পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা আদৌ কি সম্ভব? প্রশ্ন করছেন বৃদ্ধ।



