Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেশার টাকা না পেয়ে মাকে খুন করে আত্মঘাতী ছেলে

নিজের বাড়িতে মা ছেলের অগ্নিদ্বগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল কুলটিতে। বৃহস্পতিবার কুলটি কলেজ রোড এলাকায় প্রাক্তন ইসিএল কর্মী দয়াময় মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নেশার টাকা না পেয়ে মাকে খুন করে আত্মঘাতী ছেলে
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিজের বাড়িতে মা ছেলের অগ্নিদ্বগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল কুলটিতে। বৃহস্পতিবার কুলটি কলেজ রোড এলাকায় প্রাক্তন ইসিএল কর্মী দয়াময় মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৭৬) ও রাজা মুখোপাধ্যায় (৫০)। সন্ধ্যাদেবী রাজার মা। প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়ি থেকে গুলির শব্দও শোনা গিয়েছিল। ফলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, রাজা গুলি করে মাকে খুন করার পর ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারপর নিজেও গুলি করে আত্মঘাতী হন। রাজা মাদকাসক্ত ছিল বলে পরিবারের দাবি। নেশার টাকা জোগাড় করতে মা, বাবাকে মারধরও করত। ছেলের হাতে মার খেয়ে দয়াময়বাবু বুধবার পুরুলিয়ায় মেয়ের বাড়ি চলে যান। বৃহস্পতিবার মা ছেলের মধ্যে ফের অশান্তি হয়। তার পরই মর্মান্তিক ঘটনা।  

Advertisement

ডিসি (পশ্চিম) সানা আখতার বলেন, ‘আগুনে ঝলসে যাওয়া অবস্থায় মা ও ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই এনিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাবে।’
জানা গিয়েছে, দয়াময়বাবুর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। রাজার বিয়ে হলেও ২৫ বছর আগে ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা, মা ও ছেলে একটি বাড়িতেই থাকতেন। রাজা বেসরকারি কারখানায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। ছ’মাস আগে তিনি কাজ হারান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদকাসক্ত ছিলেন রাজা। নেশার বিপুল টাকা প্রয়োজন হতো। সেই টাকা জোগাড় করতে বাবা, মায়ের উপর অত্যাচার চালাতেন। বাবার অবসরকালীন টাকাও নেশা করতে গিয়েই শেষ করে দিয়েছেন। এবার বাড়ি বিক্রি করে টাকা চেয়েছিল রাজা। শেষ সম্বল বাড়িটি বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না বাবা, মা। বুধবার এনিয়ে প্রবল অশান্তি হয়। বাবাকে ব্যাপক মারধর করেন রাজা। ভয়ে, অভিমানে বাড়ি ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে চলে যান বৃদ্ধ। ছেলের অত্যাচার সত্বেও থেকে গিয়েছিলেন মা। স্বামীর জোরাজুরিতেও তিনি যাননি বলে পড়শিদের বক্তব্য। আর সেটাই কাল হল। গভীর রাতে বাড়িটি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন স্থানীয়রা। দমকল ও পুলিশকে ফোন করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে দেখে বাড়িটি ভেতর থেকে বন্ধ। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ভেতরে ঢোকে দমকল ও পুলিশ। দেখা যায়, মা ও ছেলের ঝলসানো দেহ পড়ে। দু’জনকে উদ্ধার করে আসনাসোল জেলা হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু, কীভাবে ভয়াবহ আগুন লাগল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের আগে গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ দাস বলেন, ‘আগ্নিকাণ্ডের আগে দু’টি গুলি চালানো শব্দ শোনা গিয়েছিল।’
ঘটনার খবর পেয়ে পুরুলিয়ার কাশিপুরের মেয়ের বাড়িতে থেকে আসেন বৃদ্ধ দয়াময়বাবু। তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। শুনলাম প্রথমে মাকে গুলি করে খুন করে নিজে গুলি করেছে রাজা।’ দয়াময়বাবুর ছোট জামাই বিমান তপাদার বলেন, ‘রাজা মাদক সেবন করত। এরজন্য বিপুল টাকা নষ্ট করেছে। ওর বাবার অবসরকালীন সব টাকা শেষ করে দিয়েছে। এবার বাড়ি বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছিল।’ পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের তেজ এতটাই বেশি ছিল যেখান থেকে বন্ধুক উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। তাই ঘরটি প্রাথমিক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেহগুলি গলে যাওয়ায় গুলির ক্ষতচিহ্ন বোঝা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ