সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: দস্তানা পরে বুকের উপর চেপে বসে গলা টিপে বাবাকে খুন করেছিল ছেলে ও বউমা। ওই দৃশ্য দেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণ বেঁচেছিলেন মা। সম্পত্তির লোভেই এই খুন, তা প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার এই মামলায় অভিযুক্ত দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল চন্দননগর আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ৬ জুলাই রাত দশটা নাগাদ খেয়েদেয়ে নিজের ঘরে যান বৃদ্ধ আদিত্য কোলে। তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত গৌরবাটি গ্রামে দোতালার ঘরে তিনি থাকতেন। তাঁর স্ত্রী বছর চৌষট্টির সাবিত্রী কোলে ওই তলেই অন্য ঘরে নাতনিকে নিয়ে শুয়েছিলেন। রাত ১টা নাগাদ স্বামীর ঘর থেকে আর্তনাদ শুনে সাবিত্রীদেবী ওই ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দেখেন, তাঁর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করলে নাতি দরজা খুলে দেয়। তিনি স্বামীর ঘরে গিয়ে দেখেন, ছেলে ও বউমা স্বামীর বুকের উপর বসে। তাদের হাতে দস্তানা। গলা টিপে স্বামীকে খুন করেছে তারা। প্রমাণ লোপাট করতে বউমা শাশুড়িকেও খুন করার জন্য প্ররোচিত করে সাবিত্রীদেবীর ছেলেকে। ভয় পেয়ে সাবিত্রীদেবী বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক ছুটে গিয়ে আশ্রয় নেন দেওরের বাড়িতে। ওই বাড়ি থেকে দেওরের বাড়ি হেঁটে গেলে বড়জোর ১০ মিনিট লাগে। পরে সাবিত্রী দেবী তারকেশ্বর থানায় ছেলে অমিত ও বউমা পূজা কোলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তদের। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী অফিসার। সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ১৯ জনের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। কেস ডায়েরি ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে এদিন চন্দননগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকার অভিযুক্ত অমিত কোলে ও তার স্ত্রী পূজা কোলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সম্পত্তির লোভেই ছেলে ও বউমা মিলে বাবাকে খুন করেছে। প্রমাণ লোপাট করতেই তারা হাতে দস্তানা পরেছিল। সন্তানের কাছে বৃদ্ধ বাবা সুরক্ষিত নন। এটা মানবতার লজ্জা। আমি সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলাম। আদালত দম্পতির বাচ্চাদের কথা ভেবেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে।