সংবাদদাতা, কান্দি: স্বামীর মৃত্যুর পর বিষয়-সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। এরপর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ছেলে বউমার বিরুদ্ধে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঠাঁই হয়েছে রাস্তায়। গত ছ’মাস ধরে এভাবেই কাটছে প্রৌঢ়ার। শুক্রবার ছেলে, বউমার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে কান্দি মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেন মা।
কান্দির কালীবাড়ি মোড়ে ওই প্রৌঢ়ার বাড়ি। প্রায় তিনবছর হল স্বামী কানাইলাল ঘোষের মৃত্যু হয়েছে। বাড়ির পাশে মৃত স্বামীর মিষ্টির দোকানও ছিল। এছাড়াও ভরতপুর থানার মধুপুর গ্রামে প্রৌঢ়ার গ্রামের বাড়ি ও জমি ছিল। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর সমস্ত বিষয় সম্পত্তি ছেলের নামে হয়ে যায়। প্রৌঢ়ার অভিযোগ, ওইসব সম্পত্তি তাঁর কাছে জোর করে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কালীবাড়ি মোড়ের বাড়িতে ছেলে বউমার সঙ্গেই থাকতেন প্রৌঢ়া। তাঁর অভিযোগ, বিষয় সম্পত্তি লিখে দেওয়া পরেই তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত ছেলে ও বউমা। ছ’মাস আগে একদিন রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
এখন রাস্তায় ঠাঁই তাঁর। প্রৌঢ়া বলেন, বিষয় সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার পর ছেলে ও বউমা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন রাতে অন্যের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকি। আর দিনে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াই। পাড়ার একটি হোটেলের সামনে ভিক্ষে করতে হয়। নিজের বাড়ির দিকে তাকাতেও যেতে দেয় না ছেলে বউমা। কান্দির বাসিন্দা প্রদীপ সিংহ বলেন, মহিলার প্রতি চরম অন্যায় হয়েছে। আমরা ওঁর ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেও পারিনি। তাই কয়েকজন মিলে মহিলার পল্টুর ভাতের হোটেলে এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এদিকে, বিচার চেয়ে শুক্রবার কান্দি মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হন ওই প্রৌঢ়া। ছেলে ও বউমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন তিনি। অভিযোগ পেয়ে কান্দি মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং বলেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে অভিযুক্ত ছেলের মোবাইলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রায় তিনঘণ্টা ধরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিন দুপুরের দিকে অভিযুক্তের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় তালাবন্ধ। কান্দি থানার এক অফিসার বলেন, ওই মহিলা থানায় এসে যোগাযোগ করতে পারেন। পুলিস সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।