নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে দালালের যৌন লালসার শিকার এক নাবালিকা। ভরদুপুরে রাজ্যের সেরা সরকারি হাসপাতালে দুঃসাহসিক ঘটনা। হাসপাতালের শৌচাগারে নাবালিকা ধর্ষণের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল ভবানীপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ‘দালাল’ অমিত মল্লিক ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মানসিক রোগগ্রস্ত কিশোরীকে ধর্ষণ
করে। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, কখনও ডাক্তার, কখনও আবার ওয়ার্ড বয় সেজে হাসপাতালে দালালরাজ চালাত অমিত। রোগীর পরিবারদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে পরিষ্কার জামাকাপড় পড়ে
অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জন করতো পিজির ‘বহুরূপী দালাল’। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পিজি ধর্ষণকাণ্ডে ধৃত অমিত মল্লিকের বিরুদ্ধে ছদ্মবেশে ধর্ষণের অভিযোগে নয়া ধারা যুক্ত করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৯ ধারা
অনুযায়ী ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পিজির ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী নিরাপত্তা আরও জোরদার
করতে আজ, শনিবার নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বৈঠকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা থাকবেন।
বুধবার দুপুরে মনোরোগ বিভাগে ডাক্তার দেখাতে এসেছিল ১৪ বছরের নাবালিকা। সঙ্গে ছিল তার মা। চিকিৎসককের সঙ্গে তিনি কথা বলতে যান। সেই সময়ে বাইরে নাবালিকাকে একাই বসে থাকতে দেখে টার্গেট করে অভিযুক্ত অমিত। চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে সে। জেরায় ধৃত জানিয়েছে, নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেই বুঝতে পারে সে মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই বিষয়টি বুঝতে পেরেই নাবালিকার সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ছক কষে অমিত। মানসিক অসুস্থতার সুযোগেই নির্যাতিতাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানেই ধর্ষণ করা হয় তরুণীকে। যা এই মামলাকে আরও ঘৃণ্য করে তোলে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ধর্ষণের সময় আর্তনাদ শুনতে পান ট্রমা কেয়ারের দু’জন সহকারী অধ্যাপক। তাঁরাই পুলিশকে বিষয়টি জানান।
যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশেরও অভিযোগ উঠেছে অমিত মল্লিকের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, মূলত হাসপাতাল চত্বরে দালাল হিসেবে কাজ করত অমিত মল্লিক। রোগীদের প্রতারণা করাই ছিল তার অন্যতম কাজ। নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাধারণ পোশাকে না থেকে ইউনিফর্ম পরে থাকত সে। শুক্রবার ধৃতের বাড়িতে ফের অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে বেশ কিছু ওয়ার্ড বয়ের পোশাক উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি প্রতারণার কাজেই ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে ‘বহুরূপী দালাল’।
অন্যদিকে, শুক্রবার আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে পেশ করা হয় অভিযুক্ত অমিত মল্লিককে। নির্যাতিতা ও ধৃতের ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি তার মায়ের গোপন জবানবন্দির আবেদন করা হয়। সেই আর্জি মঞ্জুর করেছেন বিচারক। দু’জনের ডিএনএ পরীক্ষা করবে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিন টক্সিকোলজি বিভাগ। একইসঙ্গে, নির্যাতিতার মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষাও করা হবে। এদিকে, বিচারকের নির্দেশে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ফের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে অভিযুক্তকে।