Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কারও কোলে শিশু, কেউ লাঠি হাতে! ভোটাধিকার ফিরে পেতে লম্বা লাইন

বুধবার ইটাহার বিডিও অফিস চত্বরে বাতিল ভোটারদের চোখে ধরা পড়ল হয়রানি, আতঙ্ক ও ক্লান্তির ছবি। প্রত্যেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন-যে চক্রান্ত চলছে, তাতে তালিকায় নাম না উঠলে কি সত্যিই যেতে হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে?

কারও কোলে শিশু, কেউ লাঠি হাতে! ভোটাধিকার ফিরে পেতে লম্বা লাইন
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

দিবাকর মজুমদার, ইটাহার: কেউ এসেছেন দিনমজুরের কাজ ফেলে, আবার সাত মাসেরসন্তানকে কোলে নিয়ে ট্রাইবুনালের নথি জমা দিতে এসেছেন বধূ। বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়া বৃদ্ধদেরও লাঠি হাতে দেখা যাচ্ছে সেখানে। বুধবার ইটাহার বিডিও অফিস চত্বরে বাতিল ভোটারদের চোখে ধরা পড়ল হয়রানি, আতঙ্ক ও ক্লান্তির ছবি। প্রত্যেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন-যে চক্রান্ত চলছে, তাতে তালিকায় নাম না উঠলে কি সত্যিই যেতে হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে?

Advertisement

দোলাচলকে সঙ্গী করেই সকাল থেকে সহায়তা শিবিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। তবে মোথাবাড়ির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো প্রক্রিয়াই চলছে কেন্দ্রীয়বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে।
৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪৬ জনের নাম বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে ইটাহার ব্লকেই প্রায় ১৮ হাজার। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে অনলাইন ও অফলাইনে ট্রাইবুনালের আবেদন প্রক্রিয়া। সেই সূত্রেই বিডিও অফিসে চালু হয়েছে সহায়তা শিবির। যেখানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শয়ে শয়ে বাতিল ভোটাররা ছুটে আসছেন নথি জমা দিতে।
ঘেরা গ্রামের দিনমজুর আলফাতুন বিবি ও তাঁর স্বামীও এসেছেন কাজ ফেলে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অন্যের জমিতে কাজ করে পাওয়া মজুরিতে সংসার চলে। কিন্তু গত এক মাস ধরে নাম তোলার চিন্তায় নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না তাঁরা। আবার এদিকে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান। তাদের রেখে এসেছেন দম্পতি।
মাধবপুরের বাসিন্দা বিলকিস খাতুনের পরিস্থিতিও অনেকটা এক। নথি জমা দিতে এসে সাতমাসের শিশুকে কোলে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাঁকে। বললেন, সন্তান কান্নাকাটি করলেও নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তাই তাকে রেখে কষ্ট করে এসেছি।
এদিন দুর্গাপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ইটাহার বিডিও অফিসে বৃদ্ধা ময়না রায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। মা ও ছেলের নাম বাদ গিয়েছে। লাঠিতে ভর দিয়ে চলা বৃদ্ধার আশঙ্কা, এই বয়সে এসে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। নাম না উঠলে নাকি শুনছি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে! একইভাবে খুরসেদ আলি ও সুজন আলিরা তাঁদের ভাইদের হয়ে নথি জমা দিতে এসেছেন। কেউ কলকাতায়, কেউ কেরলে কাজ করেন। বারবার তাঁদের আসা সম্ভব নয়। তাই পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব বাঁচাতে তাঁরাই এসেছেন। সব মিলিয়ে, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ইটাহারের হাজার হাজার মানুষের। তাঁদের একটাই দাবি, যত দ্রুত সম্ভব নাম উঠুক ভোটার তালিকায়। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ