Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে কালীপুজোর থিমে বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের কিছু কাহিনি

দুর্গাপুজো শেষ। পুজো কার্নিভালও শেষ। বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে চলে গিয়েছে উমা।

বারাসতে কালীপুজোর থিমে বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের কিছু কাহিনি
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: দুর্গাপুজো শেষ। পুজো কার্নিভালও শেষ। বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে চলে গিয়েছে উমা। বাংলার মনে বিষাদের সুর তিরতির করে বইছে। এবার বাংলাকে আলো-আনন্দে ভরিয়ে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কালী। পা রাখতে চলেছেন বঙ্গে। কালীপুজোর জন্য বারাসত এবং মধ্যমগ্রামের বিস্তর নামডাক। এই দুই গা লাগোয়া শহরে রয়েছে একাধিক বিগ বাজেটের পুজো। যার মধ্যে অন্যতম বারাসতের কেএনসি রেজিমেন্ট। বারাসত থানার পাশেই হয় এদের মণ্ডপ। প্রতিবছরই তারা চমকপ্রদ থিম তৈরি করে। এবছরও চমকে দিতে চায়। এবার তাদের থিম, ‘হে বঙ্গভূমি, তুমি অন্তর্যামী’। থিমের অন্তর্কথা হচ্ছে, বাঙালি ও বাংলা ভাষা। এবছর কেএনসি’র পুজো ৬৬ বছরে পা দিয়েছে।

Advertisement

‘স্রেফ বাংলা বললেই বাংলাদেশি?’ ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্তার একাধিক কাণ্ড সামনে এসেছে। পুলিস অত্যাচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসব কথা স্মরণ করেই তৈরি হয়েছে বাংলা নিয়ে থিম। ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে নবজাগরণ পর্ব সর্বক্ষেত্রেই এগিয়ে বাঙালিরা। সেই সব গর্বকথায় শান দিয়েই থিম, হে বঙ্গভূমি...। ভাষা বিতর্কে সরাসরি জুড়তে না চাইলেও তাদের বিষয় ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্যোক্তাদের কথায়, ভাষা হিসেবে বাংলার অতীত ঐতিহ্য, বর্তমান প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরা হবে মণ্ডপে। তাছাড়া মনীষীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও দেখানো হবে। বিভিন্ন আন্দোলনে বাঙালি কতটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাও উঠে আসবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে বর্তমান সাহিত্যিকদের অবদান তুলে ধরা হবে মণ্ডপসজ্জায়। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যানারে না হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এবার এই কমিটি বার্তা দিতে চাইছে।
বারাসত স্টেশন থেকে কিছুটা এগলে হরিতলা। আর কয়েক মিনিট এগলেই কেএনসি রেজিমেন্টের প্যান্ডেল। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এখন কিছুটা চিন্তায় উদ্যোক্তারা। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে তমলুকের শিল্পী দেবাশিস। তিনি বলেন, ‘বাংলা হল আমাদের অলঙ্কার। তাই ভাষা ও বাঙালিদের সংগ্রামের দিকটি তুলে ধরা হচ্ছে মণ্ডপে। বাঁশ, ফাইবার, টেরাকোটার বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে হচ্ছে মণ্ডপ।’ পুজোর কর্মকর্তা অশনি মুখোপাধ্যয় বলেন, ‘ভাষাশিক্ষার গুরু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান মণ্ডপের অন্দরে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। তাছাড়া রামকৃষ্ণদেব থেকে শুরু করে রাজা রামমোহন রায় বা অনান্য বীর বাঙালি সন্তানদের কাহিনিও মন্দিরের ভিতর তুলে ধরছেন শিল্পী। সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা নিয়ে ভাবনাচিন্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, মূর্তি সাবেকি। থাকছে দিল্লি ও চন্দনগরের আলোকসজ্জা। রাস্তার দু’ধার সাজানো হবে আলো দিয়ে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ