সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি হয়নি। কিন্তু, অনেক বিজেপি নেতার ভোল বদলে গিয়েছে। সৌজন্যে ‘অনুদান’! লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে নেতারা ব্যাপক ‘অনুদান’ আদায় করেছিলেন। সেই টাকা কোথায়, কিভাবে খরচ হয়েছে, তা কারও জানা নেই। ‘অনুদান’-এর সেইসব চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরে তোলপাড়। বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের সময় দিল্লি থেকে টাকা আসে। এছাড়া বিজেপি সহানুভূতিশীল ব্যবসায়ীরাও দলের ফান্ডে টাকা দেন। কিন্তু, চিঠি ব্যবসয়ীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ‘অনুদান’ আদায়ের কোনও নির্দেশ থাকে না দলের তরফে। পার্টি ফাণ্ডে জমা হওয়া টাকার হিসেব দিতে হয়। তবে, অনুদানের টাকার হিসেব দেননি কেউই। দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই। তাই, দলের একাংশ নেতার আঙুল ফুলে কলাগাছ!
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে গলসির এক বিজেপি নেতার ‘অনুদান-কীর্তি’। তিনি একটি ব্যবসায়ী সংগঠনকে চিঠি লিখে আবদার করেছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রচুর খরচ হয়েছে। পার্টি তহবিলে যথাসম্ভব অনুদান দেওয়া হোক। একাধিক ব্যবসায়ীর কাছেও এই একই বয়ানে চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতা বলেন, ক্ষমতায় না আসতেই একশ্রেণির নেতা ফুলেফেঁপে উঠেছেন। আগের নির্বাচনগুলিতে টিকিট দেওয়ার নামে অনেকে টাকা আদায় করেছেন। সম্প্রতি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ভক্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে লালবাজারের গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেছে। সে জেরায় জানিয়েছে, আগের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেতে বিজেপির এক নেতাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা জোগাড় করতে ধার করতে হয়েছিল। টাকা দিলেও সে টিকিট পায়নি। পাওনাদাররা চাপ দিতে থাকে। সেই কারণেই অর্থ তছরূপ করেছে বলে ভক্তের দাবি। টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ওই নেতা রাতারাতি ফুলেফেঁপে ওঠেন। আগে তিনি মাটির বাড়িতে থাকলেও এখন তাক লাগানো বাড়ি তৈরি করেছেন। তাঁর চালচলনও বদলে গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কোনও ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ‘অনুদান’ নেওয়ার পরামর্শ বা নির্দেশিকা ছিল না দিল্লির তরফে। উল্টে বলা হয়েছিল, কেউ টাকা দিলেও তা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নেওয়া যাবে না। পার্টির নিদিষ্ট অ্যাকাউন্টে কেউ ইচ্ছে করলে টাকা দিতে পারেন। তবে, ‘অনুদান’ আদায়ের ক্ষেত্রে পার্টির থেকে স্পষ্ট কোনও গাইড লাইন পাঠানো হয়নি। লোকসভা নির্বাচনে প্রতি বুথ পিছু দিল্লি অর্থ বরাদ্দ করেছিল। অন্যান্য খরচের জন্যও টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও ‘অনুদান’ আদায়ের জন্য নেতাদের একাংশ কেন মরিয়া ছিলেন, তা নিয়ে অনেক কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন। জেলায় বিজেপির আদি নেতা হিসেবে পরিচিত কেশব কোনার বলেন, ‘অনুদানের টাকা ব্যক্তিগত কাজে অনেকে খরচ করেছেন। সংগঠন মজবুত করার চেয়ে নেতারা অনুদান আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন।’ বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সম্পাদক রাজু পাত্রের অবশ্য সাফাই, ‘নির্বাচনের সময় অনেকেই সহযোগিতা করতে চান। সব দলই অনুদান নেই। এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরির কোনও মানে নেই।’
অনুদান চেয়ে চিঠি।-নিজস্ব চিত্র