Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভার দেওয়া জঞ্জাল ফেলার বালতিতে কেউ লাগাচ্ছেন গাছ, কেউ রাখছেন জল

পুরসভার দেওয়া জঞ্জাল ফেলার বালতিতে কেউ লাগাচ্ছেন গাছ, কেউ রাখছেন জল
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুরসভার দেওয়া জঞ্জাল ফেলার বালতিতে কেউ লাগিয়েছে ফুলের চারা, কেউ আবার তা কাপড় কাচার জন্য ব্যবহার করছে। কেউ মশলাপাতি রাখছে। জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য বাঁকুড়া পুরসভার তরফে সবুজ ও নীল রঙের বালতি শহরের বাসিন্দাদের দেওয়া হয়েছিল। তা নির্দিষ্ট কাজের জন্য খুব কম লোকই ব্যবহার করেন বলে পুর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে। এভাবে চললে পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলের। 

Advertisement

বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার বলেন, মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের আওতায় আমরা পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য যথাক্রমে সবুজ ও নীল রঙের কয়েক হাজার বালতি শহরের বাসিন্দাদের দিয়েছিলাম। কিন্তু সেসব অন্য কাজে ব্যবহার করছেন বাসিন্দারা। বার বার বলেও কাজ হচ্ছে না। ফলে জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। কিছুদিন আগে আমরা কয়েকটি ওয়ার্ডে নতুন করে বালতি বিলি করেছি। তখন টোটোর পিছনে ব্যানার, ফ্লেক্স লাগিয়ে প্রচার করা হয়েছিল। ওইসব ব্যানারে বালতির ছবি ও তা কোন কাজে ব্যবহার করা উচিত তা ছবি সহ উল্লেখ করা ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা ফের শহরে সচেতনতামূলক প্রচার চালাব। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক বধূ বলেন, আমরা বাড়ির জঞ্জাল এক জায়গাতেই জড়ো করে রাখি। তার জন্য বাড়ির একটি পুরনো ভাঙা বালতি ব্যবহার করা হয়। প্রথম প্রথম জঞ্জাল সংগ্রহ করতে আসা পুরকর্মীরা আপত্তি জানাতেন। এখন আর তেমন কিছু তাঁরা বলেন না। পুরসভার দেওয়া বালতিতে আমি কলের জল ধরে রাখি। মাঝেমধ্যে তা রান্নাঘরের অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা হয়। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরে প্রতিদিন বেশ কয়েক টন জঞ্জাল সংগ্রহ করা হয়। কম্প্যাক্টর মেশিনের সাহায্যে জঞ্জালের আকার কমিয়ে তা শহর সংলগ্ন কেশরা এলাকার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এতদিন তা সেখানে স্তূপাকার করে রাখা হতো। সম্প্রতি রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দকৃত অর্থে সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে অজৈব বর্জ্য বা মূলত প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ পৃথক করা হবে। তা থেকে মণ্ড তৈরি করে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে। তারজন্য ৮ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ করেছে। ওই প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে রূপায়ণের জন্য দুই ধরনের বর্জ্য পৃথকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। তা শহরের বাড়ি বা দোকান থেকেই আলাদা হয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পৌঁছলে সুবিধা হবে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তাছাড়া শুরু থেকে বাড়ির জঞ্জাল আলাদা ভাবে রাখলে তা পরিবেশের পক্ষেও ভালো বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। ফলে পুরসভার দেওয়া বালতি যাতে নির্দিষ্ট কাজের জন্য সকলে ব্যবহার করেন, তার উপর আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা জোর দিতে চাইছেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ