নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় ‘রক্তদান জীবনদান’ নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে দেওয়া হয়েছিল। প্রবন্ধ রচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘বিজ্ঞানমনস্কতা ও কুসংস্কার’। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রে প্রবন্ধ রচনায় এল, ‘পরিবেশ ও বিপন্ন মানুষ’। প্রশ্নপত্রে বিজ্ঞান চেতনা ও পরিবেশ বাঁচানো সংক্রান্ত বিষয়বস্তু উঠে আসায় আশার আলো দেখছেন পরিবেশ ও বিজ্ঞানকর্মীরা। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা সমাজে লাগাতার ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। ফলে শিক্ষাদপ্তরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে তারা।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘কেন্দ্র এনসিআরটি’র বই থেকে পরিবেশ, ডারউইন বাদ দিয়ে দিচ্ছে। রাজ্যে পরিবেশের বিষয়গুলি যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে উঠে আসছিল। তা এখন কমছে। তবে তার মধ্যেও প্রশ্নপত্রে এরকম বিষয় উঠে আসা খুবই ভালো।’ পরিবেশকর্মী নব দত্ত বলেন, ‘উদ্যোগ খুবই ভালো। বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় ক্ষমতাসীন মানুষদের। তাঁরা কি পরিবেশের বিপন্নতা নিয়ে সদর্থক কিছু করবেন? আমরা কি তা আশা করতে পারি?’
সাধুবাদ যেমন রয়েছে, তেমন বিতর্কও থাকছে। এদিন উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের প্রকাশ দেখা গিয়েছে। সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল, পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এই ক্ষোভ উগরে দিলেন পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষে হয়েছিল তৃতীয় সেমেস্টার। তারপর ছিল দুর্গাপুজো। ছুটি পড়ে গিয়েছিল। এর ফলে সিলেবাস শেষ করার সময় পায়নি অনেকে। এই অংশের অভিযোগ, নভেম্বরে বই হাতে পেয়ে কার্যত দু’মাস প্রস্তুতি নিতে না নিতেই শুরু হয়ে গেল চতুর্থ সেমেস্টার। বেথুন স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন শুভম ঘোষ। পরীক্ষা শেষে তিনি বললেন, ‘আরও একটু সময় পাওয়া গেলে ভাল হত। চল্লিশ নম্বরের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছি। তবে এবার ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কাজেই বিষয়গুলি বোঝার ছিল। সে সময় পাওয়া যায়নি।’ শ্যামবাজারের পার্ক স্কুলের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘সরকারের উচিত ছিল চতুর্থ সেমেস্টারের বইপত্র আরও আগে দিয়ে দেওয়া। অনেকটা সময় মোবাইলে পিডিএফ দেখে পড়াশোনা করেছে সবাই। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দেওয়া ঠিক হল না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেমেস্টার পিডিএফ দেখেই পড়েছে।’ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের বড়ো অংশ এই ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘চতুর্থ সেমেস্টারের বই নভেম্বরের শেষের দিকে পেয়েছে। তারপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই পরীক্ষা! প্রস্তুতি স্বাভাবিকভাবেই ভাল হয়নি। সিলেবাস শেষ হয়নি। ভালো করে প্রস্তুতি না নিয়েই পরীক্ষায় বসতে হল। জানি না রেজাল্ট কেমন হবে!’