নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবারের পর বুধবার! সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারাসত।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবারের পর বুধবার! সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারাসত।
এবারের ঘটনা দত্তপুকুর থানা এলাকার টালিখোলার। স্থানীয় এক বাসিন্দা ফেসবুকে পাকিস্তানকে সমর্থন করে পোস্ট করায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আম জনতা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তার কঠোর শাস্তির দাবিতে জোরদার বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এমনকী, অভিযুক্তকে গণধোলাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই পরিস্থিতিতে পুলিস তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের সঙ্গেই বিক্ষুব্ধদের তুলকালাম বেধে যায়। পুলিসকে লক্ষ করে উত্তেজিত জনতা ইট ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস পাল্টা লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। পুলিস ওই বিতর্কিত পোস্টদাতাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, অবরোধ ও বিক্ষোভের অভিযোগে আরও ১৩ জনকে পাকড়াও করেছে। একইরকম বিতর্কিত পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে নাজির হোসেনের ছেলে শামিমের বিরুদ্ধেও। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দত্তপুকুর থানার টালিখোলা এলাকায় বারাসত-বারাকপুর রোডে বাড়ি নাজির হোসেনের। অভিযোগ, সে নিজের ফেসবুক পেজে পাকিস্তানকে সমর্থন করে পোস্ট করে। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকার বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষোভ বাড়তে থাকে মানুষের। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ বেশ কিছু লোক জড়ো হন বারাসত-বারাকপুর রোডে। তারপর তারাই নাজির হোসেনকে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে ওই ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। ঘন্টাখানেক ধরে চলে অবরোধ। ঘটনাস্থলে আসে বারাসত ও দত্তপুকুর থানার বিরাট পুলিস বাহিনী ও র্যাফ। জনরোষের হাত থেকে নাজির হোসেনকে বাঁচাতে গেলে পুলিসের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে ওঠে ক্ষিপ্ত জনতা। শুরু হয় পুলিস-জনতা খণ্ডযুদ্ধ। পুলিস লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে পুলিসকে ইট ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। জখম হন পুলিসের বেশ কয়েকজন কর্মী। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিস টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনাস্থল থেকে নাজির হোসেন সহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে বারাসত থানায় নিয়ে যায় পুলিস। খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতেই ধৃত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা চলে আসেন বারাসত থানায়। তাঁদের মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। ভোররাত পর্যন্ত বারাসত থানার গেটের বাইরে এলাকার মানুষ অবস্থান করে। স্থানীয়দের বক্তব্য, ‘নাজির হোসেন ও তার ছেলে পাকিস্তানকে সমর্থন করে উস্কানিমূলক পোস্ট করেছে। দেশদ্রোহীদের কঠোর শাস্তি চাই। তাই আমরা অবরোধ করেছিলাম। কিন্তু পুলিস আমাদের উপরই লাঠিচার্জ করেছে।’ বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কে অনন্ত বলেন, ‘ইট ছোড়ার কারণে পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করার অভিযোগে নাজির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিসকে মারধর সহ একাধিক অভিযোগে আরও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে বারাসতের চাঁপাডালি মোড়ে এক মাংস বিক্রেতার দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় জানা যায়, নাজির ও শামিম হোসেন ছাড়া বাকিরা জামিন পেয়েছেন।