পাটনা: চাপে পড়ে সমাজকর্মী ভরতভূষণ তিওয়ারির এনকাউন্টার নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। আত্মসমর্পণের পরও কেন তাঁকে খুন করা হল, বিরোধীদের পাশাপাশি সেই প্রশ্ন তুলেছে তাঁর নিজের দলও। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পাটনা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’ ১৭ জুন ভরতের মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল বিহারের রাজনীতি। বিরোধীদের এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে ভরতকে। পুলিশ অবশ্য আত্মরক্ষার তত্ত্বেই সিলমোহর দিয়েছে।
ভোজপুর জেলার শাহপুর থানার বিলাউটি গ্রামের সমাজকর্মী ভরতভূষণ তিওয়ারি বিহারে পরিচিত নাম। স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করতেন তিনি। সম্প্রতি ফেসবুকে বন্দুক হাতে একটি তাঁর একটি ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। এনিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন গ্রামে যায় পুলিশ। ভরত ওই সময় পুলিশের দিকে বন্দুক তাক করে নিজের দাবি তোলেন বলে অভিযোগ। পরের দিন পুলিশ গ্রামে গেলে বন্দুক ফেলে আত্মসমর্পণ করেন ভরত। তার আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই এনকাউন্টারে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় সরকারকে নিশানা করেছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কখন ভরতের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইবেন? একদিকে যখন তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা বলছেন, তখন তাঁর পুলিশই ভরতের পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে!’ জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা বলেন, ‘এনকাউন্টার নিয়ে পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারিও এই নিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি করেন।