Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সার্টিফিকেট সহ সব নথিপত্রে ইন্ডিয়ার বদলে ভারত, নেপথ্যে আরএসএস?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সার্টিফিকেট সহ সব নথিপত্রে ইন্ডিয়ার বদলে ভারত, নেপথ্যে আরএসএস?
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: রবিবার মধ্যপ্রদেশের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এরইমাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কশিট, ডিগ্রি সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে যাবতীয় নথিপত্রে ‘ইন্ডিয়া’ সরিয়ে ‘ভারত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। শুধুমাত্র রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ইন্ডিয়া থেকে রাতারাতি ভারতে পরিবর্তিত হওয়ার এই দৌড়ে নাম লিখিয়েছে দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর এর নেপথ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। এনিয়ে সরব বিরোধীদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, প্রায়শই নানা অনুষ্ঠানে ভারত শব্দটির হয়ে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতকে। অখণ্ড ভারতের হয়ে কথা বলেছেন তিনি। এবার সেই মতাদর্শকে ছড়িয়ে দিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে গোপনে অপারেশন চলছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নয়ন দূর অস্ত, এখন এই সব নাম পরিবর্তনের খেলা চলছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই প্রচেষ্টার পিছনে রয়েছে আরএসএসের অধীনস্থ সংগঠন শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস। যার নির্দেশে কাজ করছে ভারতীয় ভাষা মঞ্চ নামে আরও একটি সংগঠন। প্রয়াত দীননাথ বাত্রা, লেখক এম এল গুপ্তা সহ একাধিক আরএসএস কর্তার নামও উঠে এসেছে। এই এম এল গুপ্তা আবার ‘ইন্ডিয়া নেহি ভারত’ নামে একটি বইও লিখেছেন। এখানেই শেষ নয়। এহেন পদক্ষেপেকে সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজেশ কুমার ভার্মার পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘আমাদের দেশের প্রকৃত নাম ভারত। সেই নামটাই শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে থাকা উচিত।’
মধ্যপ্রদেশ থেকে ছত্তিশগড়। রাজ্য অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও নাম পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। তালিকায় রয়েছে ইন্দোরের দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয়, ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরের গুরু ঘাসিদাস বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। ২০২৩ সালে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনের নৈশভোজের আমন্ত্রণপত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর নামের পাশে লেখা ছিল — ‘প্রেসিডেন্ট অব ভারত’। এনিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। 
২০১৬ সালে এই নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ইচ্ছে অনুযায়ী কেউ ভারত ডাকতে পারেন। কেউ চাইলে ইন্ডিয়াও বলতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের কথায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এই প্রবণতা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ