Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬

আতঙ্ক সঙ্গী করেই সারা দেশে মেগা ইভেন্ট নিট

দেশজুড়ে নিট পরীক্ষায় আতঙ্কের পরিবেশ। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্ন কঠিন ও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত পড়ুন।

আতঙ্ক সঙ্গী করেই সারা দেশে মেগা ইভেন্ট নিট
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা:  রবিবার দেশজুড়ে এক মেগা ইভেন্টে পরিণত হল রি-নিট এগজাম! তবে আজমির, ভোপাল, বেঙ্গালুরু বা কলকাতা—বহু ক্ষেত্রে সেই ‘ইভেন্ট’ সম্পন্ন হল আতঙ্ককে সঙ্গী করে। কোথাও বোরখা পরে আসার জন্য প্রথমে পরীক্ষার্থীকে সেন্টারে প্রবেশ করতে বাধা দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পথে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে পৌঁছানোয় খোলা হল না পরীক্ষাকেন্দ্রের গেট। কোথাও আবার রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য পথে আটকে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। বহু আবেদনেও পরীক্ষায় বসতে পারেনি তারা। প্রবল বৃষ্টির জেরেও সমস্যায় পড়ে পরীক্ষার্থীদের একাংশ। রবিবার পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, প্রথমটির তুলনায় রি-নিটের প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষভাবে সক্ষমদের যে বাড়তি সময় দেওয়া হয়, অনেক জায়গাতেই তা মেলেনি।

Advertisement

গত ৩ মে নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে। বাতিল হয় পরীক্ষা। ২১ জুন ফের নিট আয়োজন করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। রবিবার পরীক্ষা চলাকালীন দীর্ঘক্ষণ দিল্লির ওখলায় এনটিএ’র সদর কার্যালয়ে বসে নজরদারি চালান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বয়ং। সাতদিন আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পরীক্ষার্থী সৃষ্টি দুবের বাবা-মার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন তিনি। সৃষ্টির পাঁজরের সাতটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। তা নিয়েই এদিন পরীক্ষা দিয়েছে সৃষ্টি। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে তার জন্য অপেক্ষায় ছিল অ্যাম্বুলেন্স। আজমিরে বোরখা পরে আসার জন্য কুলসুম বানো নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটকানো হয়। পরে অবশ্য তাকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়। 
নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার দিল্লি বিমানবন্দরে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন বেলা ১টা ১৫ নাগাদ দিল্লিতে আসেন তিনি। কিন্তু কনভয়ে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে, এই শঙ্কায় মোদি ঘণ্টাখানেক বিমানবন্দরেই অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার বেলা ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হয়। দেশের ৫৫১টি শহরে ৫ হাজার ৪৪০টি সেন্টারে পরীক্ষা হয়েছে। বসানো হয়েছিল মোট ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৬০টি সিসি ক্যামেরা। 
রি-নিটের প্রশ্নপত্র নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরীক্ষার্থীরা। অনেকেই জানিয়েছে, বায়োলজির প্রশ্ন ঠিক থাকলেও, তার উত্তর লেখা বেশ সময়সাপেক্ষ। কেমিস্ট্রি ঠিক হলেও একই অবস্থা হয়েছে ফিজিক্সে। অন্যদিকে, বহু জায়গায় বিশেষভাবে সক্ষমদের উত্তর লেখার বাড়তি সময় না দেওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে ডাঃ এ কে মাইতি বলেন, ‘পিএইচ হলে ছাত্রছাত্রীদের অ্যাডমিট কার্ডে বাড়তি সময় দেওয়ার অংশে ‘ওয়াই’ বা ‘ইয়েস’ লেখা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে সমস্ত পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ডেই তা ‘ইয়েস’ হয়ে গিয়েছিল। সেই ত্রুটি সংশোধন করতে ফের অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করলে বাড়তি সময়ের জায়গাটি ফাঁকা থেকে যায়।’ এই বিভ্রাটের কারণেই বিশেষভাবে সক্ষম বহু পরীক্ষার্থী বাড়তি সময় পায়নি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের একাংশের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ