Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সন্তান প্রসবের পর মাধ্যমিকের ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষা দিল প্রসূতি

সন্তান প্রসবের পর মাধ্যমিকের ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষা দিল প্রসূতি
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, তেহট্ট: বেথুয়াডহরি গ্রামীণ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে  বাচ্চাকে কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে মরজিনা খাতুন। বৃহস্পতিবার ছিল মাধ্যমিকের ভৌত বিজ্ঞান পরীক্ষা। ঠিক তার আগের দিন বুধবার বিকালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় বার্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মরজিনা। সেদিন বিকালেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় সে। তার বাড়ি কালীগঞ্জ থানার গহরপোতা এলাকায়। বিয়ে হয়েছে বার্নিয়া এলাকায়। তার স্কুল পলাশীপাড়া থানার বার্নিয়া। সেন্টার পড়েছে হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠে। বুধবার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্কুলের কাছে এই খবর গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কনভেনরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কনভেনর জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস পর্ষদের নিয়ম অনুসারে তাকে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেন। নাবালিকার বিয়ে নিয়ে এত সচেতনতার পরও নাবালিকার বিয়ে আটকাতে পারছে না প্রশাসন। 
Advertisement
অন্যদিকে, এদিন পলাশীপাড়া স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে অসুস্থ হয়ে পরে শামচুতোহা মণ্ডল নামে এক পরীক্ষার্থী। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে আবার পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় সেখানে সে পরীক্ষা দেয়। তেহট্ট শ্রীদাম চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছিল দেবনাথপুর শরৎ সরকার হাইস্কুলের। সেই স্কুলের এক ছাত্রী শ্রাবন্তী বিশ্বাস দু’ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। সেখান থেকে তড়িঘড়ি তাকে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান স্কুলের শিক্ষিকারা। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থতার জন্য  ওই ছাত্রী আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনে এক অনন্য নজির নদীয়ায়। এছাড়া পুলিস কর্মীদের চেষ্টায় পরীক্ষা দিতে পারল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। নদীয়ার শান্তিপুর গোবিন্দপুর দ্বারিকানাথ হাইস্কুলের ছাত্রী অঙ্কিতা ভৌমিকের শান্তিপুর বাইগাছি মোড় রবীন্দ্র বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে পরীক্ষার সিট পড়েছে। পরীক্ষার হলে পৌঁছে সে জানতে পারে, তার অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতে ফেলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অঙ্কিতা হতাশ হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা শান্তিপুর থানার এক মহিলা পুলিস কর্মীকে বিষয়টি জানায়। ওই মহিলা পুলিস কর্মী সেখানে উপস্থিত অন্য দুই পুলিস কর্মী তোতন ঘোষ ও ভগীরথ বিশ্বাসকে বিষয়টি জানান। তাঁরা মোটর বাইক  নিয়ে দ্রুত অঙ্কিতার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করেন এবং সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন।এই বিষয়ে তোতন ঘোষ বলেন, একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই চিন্তা থেকেই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেই। পুলিশের কাজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও তাদের কর্তব্য।” নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের বেডে বসে মাধ্যমিকের ভৌত বিজ্ঞান পরীক্ষা দিল নবদ্বীপ শিক্ষা মন্দির স্কুলের ছাত্র দীপঙ্কর পাল। তার পরীক্ষার সিট পড়েছিল জাতীয় বিদ্যালয় বয়েজ স্কুলে। এদিন সকাল থেকে ওই ছাত্র বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ির লোক তাকে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসা করানোর পর সে সুস্থ বোধ করলে বাড়ির লোকজন তাকে তার পরীক্ষা কেন্দ্র জাতীয় বিদ্যালয় বয়েজ স্কুলে নিয়ে যায়। সেখানে সে পরীক্ষা দিচ্ছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ